ইসরাইলের গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে ফুটবল নয়, নৈতিকতার অগ্নিপরীক্ষায় বিশ্বজয়ী প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে পুরো আয়ারল্যান্ড! রবিবার উয়েফা নেশন্স লিগে আয়ারল্যান্ড বনাম ইসরাইলের হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে যখন পুরো ফুটবল দুনিয়ার নজর থাকার কথা, ঠিক তখনই ডাবলিনের ঐতিহাসিক এলাকা থেকে শুরু করে পুরো আয়ারল্যান্ড জুড়ে শত শত পাব ও রেস্তোরাঁয় টিভি স্ক্রিনগুলো পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।
ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনের পরিবর্তে ইসরাইলের এই বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়ে আইরিশ জনগণ সোজা জানিয়ে দিয়েছে, রক্তের ওপর কোনো ফুটবল ম্যাচ হতে পারে না!
ডাবলিনের বিখ্যাত 'পিডার ব্রাউনস' পাবের মালিক আইডান ব্রাউন জানান, ইসরাইলের সঙ্গে ম্যাচ না খেলার জোরালো প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আয়ারল্যান্ড ও দেশের বাইরের প্রায় ১৪০টিরও বেশি পাব ও বার একজোট হয়ে ম্যাচ সম্প্রচার বয়কট করেছে।
দেশটির একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ ফুটবলপ্রেমী ও ৬৩ শতাংশ পেশাদার ফুটবলার ইসরাইলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোর বিরোধী ছিলেন। ২০০২ সালে রয় কিনের ঐতিহাসিক সাইপান নাটকের পর আইরিশ ফুটবলে এটিই সবচেয়ে বড় এবং উত্তপ্ত গণআন্দোলন হিসেবে দেখা দিয়েছে। 'স্টপ দ্য গেম' ক্যাম্পেইনের নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, প্রতীকী প্রতিবাদের দিন শেষ, এখন সরাসরি বয়কটের সময়!
তবে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সম্ভাব্য পয়েন্ট কর্তন ও জরিমানার ভয়ে ম্যাচ খেলার পক্ষে অবস্থান নিলেও, জাতীয় দলের ভেতরে তৈরি হয় অভাবনীয় এক নাটকীয়তা। ম্যাচ বয়কটের দাবিতে দলের ভেতরেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে ৮ জন খেলোয়াড় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকৃতি জানান।
আর সব বাধা ও দলের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আয়ারল্যান্ডের তারকা গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু একা দাঁড়িয়ে ইসরাইলের বিপক্ষে মাঠে নামতে সাফ মানা করে দেন!
২৫ জন সতীর্থের চাপ উপেক্ষা করে বাজুনুর এই বীরত্বপূর্ণ ও অভাবনীয় সাহসকে আয়ারল্যান্ডের মানুষ এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ হিসেবে অবিহিত করছেন এবং আইরিশ জনগণের হৃদয়ে বাজুনু এখন এক অন্যরকম ট্র্যাজিক হিরো ও নৈতিক বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছেন!
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা