‘আর্জেন্টিনায় ঘুরতে আসিনি, লড়াই করতে এসেছি’

বুয়েনোস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন রাত ঘনিয়ে আসছে, আকাশি-সাদা জার্সিতে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি। তবে মেসির এই ঐতিহাসিক বিদায়ী উদ্‌যাপনের রাতে প্রতিপক্ষ বেনিনের ২৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক মার্সেল দঁজিনু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁরা সেখানে কেবল দর্শক কিংবা পর্যটক হয়ে হাততালি দিতে আসেননি! সাউথ আফ্রিকান প্রিমিয়ার ডিভিশনের ক্লাব ক্রুগার ইউনাইটেডে খেলা এই গোলকিপার প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে বলেছেন, মাঠে মেসির কাছ থেকে গোল আটকানোই হবে তাঁর আসল কাজ, আর সুযোগ পেলে মেসিক্যান্টকে রুখে দিতে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন।

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক 'মার্কা'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেই বেনিনের এই গোলরক্ষক নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। বুয়েনোস আইরেসে পৌঁছানোর পর লজিস্টিক সমস্যা ও হোটেলের নিম্নমানের পরিষেবা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চলা বিতর্ক এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে দঁজিনু বলেন, আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমরা বুয়েনোস আইরেসে বেশ ভালো আছি। সত্যটা হলো, আমরা এখানে যথেষ্ট ভালো পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি।

Messi Farewell 06
মেসির বিপক্ষে খেলার অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দায়িত্ববোধের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এই আফ্রিকান গোলরক্ষক। তিনি বলেন, মেসির শেষ ম্যাচে তাঁর মুখোমুখি হওয়াটা আমার জীবনের এমন এক সুযোগ, যা আর দ্বিতীয়বার আসবে না। এটা নিঃসন্দেহে বিশেষ এক ম্যাচ। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে আমরা এখানে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের ফুটবল খেলা। আমরা এখানে পর্যটক হতে আসিনি, আমরা এখানে লড়াই করতে এবং জিততে এসেছি। জেতা, হারা বা ড্র- সবই খেলার অংশ, তবে আমরা সেরা ফুটবলটাই খেলব।

তবে কি মেসির বিদায়ী উপহার হিসেবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে? ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যদি দেখা যায় মেসি গোল পাননি এবং আর্জেন্টিনা একটি পেনাল্টি পেয়েছে, তবে কি তিনি বল জালে জড়াতে দেবেন? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বিন্দুমাত্র ইতস্তত না করে দঁজিনু কড়া সুরে জবাব দেন, "একদমই না! আমি একজন গোলরক্ষক এবং আমার কাজ হলো গোল আটকানো। শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মেসি শট নিলেও আমি সেটা সেভ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। নিয়মটা খুব সাধারণ, এটা ফুটবল। আমরা মেসির সম্মান জানাতে এসেছি ঠিকই, তবে আমাদের কেউ ওকে গোল উপহার দিতে বলেনি। আর মেসিকে আমি যতটুকু চিনি, ওর তো কোনো উপহারের প্রয়োজনও নেই! গোল করতে হলে ওকে নিজের সেরাটা দিয়েই তা অর্জন করতে হবে।

Marcel Dandjinou 02
ফুটবল ঈশ্বরের প্রতি দঁজিনুর শ্রদ্ধা অবশ্য অসীম। ছোটবেলা থেকেই মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেখে বড় হওয়া এই গোলরক্ষক মেসিকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম 'রাজা' হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এমনকি সতীর্থদের মেসির জার্সি পাওয়ার তীব্র আকুতির কথা উল্লেখ করে তিনি হেসে বলেন, আমাদের দলের যে কাউকে জিজ্ঞেস করবেন, সেই মেসির একটা জার্সি চাইবে। তাই আর্জেন্টিনা যদি আমাদের দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য একজোড়া করে মেসির বিশেষ জার্সি বানিয়ে দেয়, তবে খুব ভালো হয়! কারণ শুধু একজন গিয়ে সেই জার্সি চাইবে আর বাকিরা চেয়ে দেখবে, এত সহজ হবে না, আমরা সবাই ওর জার্সি পেতে চাই।

মেসির মহাকাব্যিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে একই মাঠে দাঁড়িয়ে গোলপোস্ট সামলানোর স্মৃতি সারা জীবন মনে খোদাই করা থাকবে বলে জানান এই বেনিন তারকা। তবে সব আবেগ আর শ্রদ্ধা পাশে সরিয়ে মঙ্গলবার রাতের সবুজ গালিচায় কোনো ছাড় দিতে রাজী নন মার্সেল দঁজিনু। মেসির স্বপ্নের বিদায়কে কতটা কঠিন করে তুলতে পারেন এই আফ্রিকান প্রহরী, এখন সেটাই দেখার বিষয়!