আকাশি-সাদা জার্সিতে ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে পুরো ফুটবল বিশ্ব যখন আবেগ ও ভালোবাসায় ভাসছে, ঠিক তখনই এক বালতি ঠান্ডা পানি ঢেলে দিলেন বেনিন জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সর্বকালের সেরা গোলদাতা স্টীভ মুনিয়ে! ঘরের মাঠে মেসির রাজকীয় এই বিদায় অনুষ্ঠান কেবল আনন্দের উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ম্যাচ শুরুর আগেই দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ছায়া। চোটের কারণে নিজে খেলতে না পারলেও বেনিন অধিনায়ক স্পষ্ট ভাষায় তাঁর সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ‘ফাউল ও নোংরা কৌশল’ এবং প্রতিপক্ষকে মাথা গরম করিয়ে লাল কার্ড খাওয়ানোর চতুর ফাঁদ সম্পর্কে!
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক 'এএস'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অগসবার্গের এই তারকা স্ট্রাইকার বলেন, আমরা এই ম্যাচটিকে একটি উৎসব হিসেবেই দেখছি। মেসির বিদায়ী মঞ্চে সারা বিশ্বের কোটি কোটি চোখ থাকবে এবং এটি আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে দক্ষতা প্রমাণের এক সুবর্ণ সুযোগ। আমরা এখানে কেবল প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসিনি, নিজেদের ফুটবল নৈপুণ্য দেখাতে এসেছি। কিন্তু আর্জেন্টাইনদের ছলচাতুরি সম্পর্কে আমাদের অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে।
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মানসিক উসকানিমূলক খেলার ধরণ ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে মুনিয়ে তাঁর নিজের পুরোনো এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। ফরাসি ক্লাব মার্সেইতে খেলার সময়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিওনার্দো ব্যাল্যার্দির চতুর কৌশলে পড়ে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল এই স্ট্রাইকারকে। সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাল্যার্দির কৌশলে পা দিয়েই আমি লাল কার্ড পেয়েছিলাম। সে প্রচণ্ড ধূর্ত ও চতুর। পুরো আর্জেন্টিনা দলই মূলত এই ‘ফাউল ও উস্কানিমূলক’ শৈলীতে অভ্যস্ত, যা পুরো লাতিন ফুটবলেরই এক ধরণের ট্রেডমার্ক। তারা সবসময় বিপক্ষের মানসিকভাবে ক্ষতি করতে চায়, গালাগাল দেয় এবং মেজাজ বিগড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে মুনিয়ে তাঁর তরুণ সতীর্থদের এই ফাঁদে না পা দেওয়ার কড়া পরামর্শ দিয়ে বলেন, "আমরা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে এভাবে খেলতে দেখেছি। আপনি যদি মানসিকভাবে শক্ত না হন, তবে তাদের উসকানিতে সাড়া দিয়ে অনায়াসে লাল বা হলুদ কার্ড খেয়ে বসবেন। তাই আমি বেণিনের সব খেলোয়াড়কে শান্ত ও সতর্ক থাকতে বলব। আমরা ম্যাচটি ১১ জন খেলোয়াড় নিয়ে শেষ করতে চাই, যেটা আমি ব্যাল্যার্দির মুখোমুখি হয়ে করতে পারিনি!
অবশ্য প্রতিপক্ষের এমন কুকীর্তি ও চতুরতা সত্ত্বেও ব্যাল্যার্দিকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন বেণিন অধিনায়ক। তিনি রসিকতা করে বলেন, ব্যাল্যার্দি খুব ধূর্ত, তবে সে নিঃসন্দেহে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়। মাঠে তাকে দেখলে আমি হয়তো অনুরোধ করব আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে যেন এমনটা না করে, তবে আমি জানি সে শুনবে না! কারণ এটিই তাদের খেলার স্টাইল এবং তারা এভাবেই খেলে অভ্যস্ত। একপক্ষে ভালোবাসা ও স্মৃতির সাগরে মেসির বিদায়, আর অন্যপক্ষে প্রতিপক্ষের এমন উসকানিমূলক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সব মিলিয়ে বুয়েনোস আইরেসের এই বিদায়ী ম্যাচটি এখন বারুদঠাসা এক দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে!