আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক শেষ ম্যাচকে কেন্দ্র করে বুয়েনোস আইরেসের বাতাসে এখন উৎসবের মাতম। কিন্তু মাঠে নামার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে প্রতিপক্ষ বেনিনের ডিফেন্ডার মোহামেদ তিজানি যে কৌশলের কথা ফাঁস করলেন, তা শুনে ফুটবল বিশ্ব একপ্রকার তাজ্জব বনে গেছে!
ফুটবল ঈশ্বরকে ঠেকানোর কোনো কড়া ট্যাকটিক্স বা ম্যান-মার্কিং নয়, বরং তিজানির সোজা কথা, মেসিকে আটকানোর মোটেও কোনো প্রয়োজন নেই! এই ঐতিহাসিক ম্যাচ শুধু উপভোগ করতেই আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রেখেছেন তাঁরা।
ম্যাচের আগের দিন বুয়েনোস আইরেসের সিটি সেন্টারের এক স্যুভেনির শপ থেকে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে বের হতে দেখা যায় ২৯ বছর বয়সী এই আফ্রিকান ডিফেন্ডারকে। হাতে আর্জেন্টিনার জাতীয় প্রতীক বহনকারী নীল-সাদা রঙের ঐতিহ্যবাহী 'মাতে' (এক ধরনের আর্জেন্টাইন চা পানের পাত্র)। ক্যামেরার সামনে তিজানি পরম আনন্দে জানান, তিনি তাঁর ছেলের জন্য আর্জেন্টিনা থেকে এই স্মারকটি উপহার হিসেবে কিনেছেন।
কিন্তু এর পরপরই যখন প্রশ্ন আসে, মঙ্গলবার রাতে রক্তমাংসের মেসির মুখোমুখি হয়ে তাঁকে আটকাবেন কীভাবে? উত্তরে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে তিজানি বলেন, মেসিকে মার্ক করার বা ঠেকানোর কোনো বিশেষ প্ল্যান নেই। তাঁকে আটকানোর প্রয়োজনই বা কী? আমরা শুধু ম্যাচটি উপভোগ করতে চাই, ব্যস এতটুকুই! তিজানির পাশে থাকা বেনিন দলের চিকিৎসক তো সরাসরি মেসিকে ‘ফুটবলের ঈশ্বর’ আখ্যা দিয়ে বসেন। এতে সুর মিলিয়ে তিজানি রসিকতা করে যোগ করেন, আমি মাঠে ওর মুখোমুখি হয়ে সোজাসুজি বলব, ‘মেসি, তুমি তো সাক্ষাৎ ঈশ্বর!’ আমি ওর কড়া ভক্ত। ম্যাচ শেষে আমি ওকে বলব, ‘মেসি, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, তোমার ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সিটা কি আমাকে দেবে?’
তিজানির এই শিশুসুলভ সরলতা ও আকুতিই বলে দিচ্ছে, বেণিন শিবিরের কাছে এই ম্যাচটি জেতা বা হারার চেয়ে মেসি-বন্দনাতেই বেশি রোমাঞ্চকর। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ যখন কেনাকাটা আর স্মারক কুড়াতে ব্যস্ত, ঠিক তখন বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি সাজাচ্ছেন তাঁর বিদায়ী 'মাস্টারপ্ল্যান'। ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে মেসির এই রাজকীয় মহাবিষাদ ঘনীভূত করতে কাতার বিশ্বকাপজয়ী সেই সোনালী প্রজন্মকেই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি। এমনকি মেসির সাথে সাথে অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিরও এটি আন্তর্জাতিক বিদায়ী ম্যাচ হতে পারে।
সম্ভাব্য একাদশে 'দিবু' মার্তিনেসের সামনে রোমেরো, ওটামেন্ডি, তাগলিয়াফিকো ও তরুণ অগাস্টিন জিয়াইকে রেখে রক্ষণভাগ সাজানো হতে পারে। মাঝমাঠে মেসির পরম বন্ধু রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আর আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হিসেবে থাকবেন হুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেস।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টা) এস্তাদিও মনুমেন্তালে যখন বাঁশি বাজবে, তখন একদিকে থাকবে মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ফুটবলপ্রেমীদের অশ্রুসজল সংবর্ধনা, আর অন্যদিকে থাকবে মোহামেদ তিজানির মতো প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের স্রেফ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পরম ঈশ্বরকে চাক্ষুষ করার এক বিরল স্বপ্নপূরণ!
তথ্যসূত্র: মারকা