ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে এক অনভিপ্রেত সংঘর্ষের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন স্প্যানিশ ক্লাব তেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগুয়েল। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে তেনেরিফের এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে। স্প্যানিশ দ্বিতীয় ডিভিশনের (লা লিগা ২) ম্যাচে আন্ডোরার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পথে ছিল তেনেরিফ। খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যোগ করা সময়ের তখন ৭ মিনিট চলছে।
পেনাল্টি এলাকা থেকে বল ক্লিয়ার হয়ে মাঝমাঠের দিকে আসছিল। ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ৩০ বছর বয়সী মিগুয়েল বলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আন্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস ওভোনোর সঙ্গে মারাত্মক এক সংঘর্ষ ঘটে। ওভোনোর হাঁটু সজোরে আঘাত করে মিগুয়েলের বুকে।
মাঠে কান্না ও ম্যাচ পরিত্যক্ত: ঘটনার পরেই রেফারি গোলরক্ষক ওভোনোর দিকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসকদের মাঠে ডেকে পাঠান। মাটিতে লুটিয়ে পড়া মিগুয়েলকে দ্রুত সান্তা ক্রুজের হসপিটাল ইউনিভার্স দে নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে ক্যান্ডেলারিয়ার আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। খেলোয়াড়দের চোখে জল ও চরম শোকের আবহ তৈরি হওয়ায় ম্যাচটি তৎক্ষণাৎ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে ক্লাবের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় বলা হয়, ব্যাথায় ভেঙে চুরমার হয়ে, গলার ভেতর দলা পাকানো কান্নায় এবং এই সত্যকে বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার ট্র্যাজিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা নেই। এই গভীর শোক প্রশমিত করার মতো কিছুই নেই। আমরা তাঁর ভেঙে পড়া পরিবার, প্রিয়জন এবং তেনেরিফের সব মানুষের পাশে আছি, যারা আজ এই নিষ্ঠুর পরিণতিতে শোকাহত।
ফুটবল ক্যারিয়ার: ২০১৫ সালে লেগানেস বি-এর হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা মাদ্রিদে জন্ম নেয়া হেসুস দে মিগুয়েল স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে কাসতেলনকে দ্বিতীয় ডিভিশনে উন্নীত করতে ১৬ গোল করে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে পেশাদার অভিষেকের পর তিনি তিন বছরের চুক্তিতে ২০২৫ সালে তেনেরিফে যোগ দেন।
সবুজ ঘাসের মাঠে গোলের জন্য লড়াই করা এক প্রাণোচ্ছ্বল ফুটবলারের এমন অকালপ্রয়াণ স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা ফুটবল দুনিয়াকে।