সাবালেঙ্কা বধে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নতুন রানি রিবাকিনা

আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম শিরোপা নিজের করে নিলেন এলেনা রিবাকিনা। শনিবার মেলবোর্ন পার্কের ফাইনালে এক বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিন বছর আগের হারের মধুর প্রতিশোধ নিলেন এই কাজাখ তারকা।

২০২৩ সালের সেই হৃদয়ভঙ্গের স্মৃতি পেছনে ফেলে রিবাকিনা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে ২০২২ সালে তিনি উইম্বলডন জিতেছিলেন। হার্ডকোর্টে সাবালেঙ্কার যে দাপট, তা রুখে দেয়ার জন্য রিবাকিনাই যে সেরা বিকল্প- এই জয়ে সেটি আবারও প্রমাণিত হলো।

২৬ বছর বয়সী এই কাজাখ খেলোয়াড় পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নীরবে কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতার সাথে খেলেছেন। রিবাকিনার অর্জনের ঝুলিতে এখন 'ড্যাফনি আখুর্স্ট’ মেমোরিয়াল কাপের পাশাপাশি ২০২৫ সালের ডব্লিউটিএ ফাইনালের শিরোপাও রয়েছে, যেখানে তিনি সাবালেঙ্কাকে পরাজিত করেছিলেন।

মেলবোর্নে ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রিবাকিনা বলেন, এই মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন, তবে আরিনাকে তার গত কয়েক বছরের অসাধারণ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাই। আশা করি আমরা সামনে আরও অনেক ফাইনাল একসাথে খেলব। 

সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। কাজাখস্তানের দর্শকদের সমর্থন আমি গভীরভাবে অনুভব করেছি। এটি সত্যিই একটি 'হ্যাপি স্ল্যাম' এবং আপনাদের সামনে খেলা আমি সব সময় উপভোগ করি।

২০০৮ সালের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে এমন দুই খেলোয়াড় মুখোমুখি হয়েছিলেন যারা টুর্নামেন্টে একটি সেটও হারেননি। রড লেভার অ্যারেনার ছাদের নিচে শুরুতেই শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কা চাপে পড়ে যান। রিবাকিনা প্রথম গেমেই ব্রেক পয়েন্ট আদায় করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন এবং দশম গেমে সেট পয়েন্ট জিতে প্রথম সেটটি নিজের করে নেন।

হার্ডকোর্ট গ্র্যান্ড স্ল্যামে গত ৪৮ ম্যাচের মধ্যে ৪৬টিতেই জয়ী সাবালেঙ্কা দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। রিবাকিনার ফোরহ্যান্ড ভুলের সুযোগ নিয়ে তিনি সেটটি জিতে ম্যাচকে তৃতীয় সেটে নিয়ে যান।

২০২৩ সালের ফাইনালেও রিবাকিনার বিপক্ষে পিছিয়ে থেকে জয়ী হয়েছিলেন সাবালেঙ্কা। নির্ণায়ক সেটে এক পর্যায়ে তিনি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিলেন। 

কিন্তু রিবাকিনা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন এবং ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন। একটি শক্তিশালী এসের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করার পর সাধারণত শান্ত স্বভাবের রিবাকিনা হাসি মুখে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে দলের সাথে উদযাপন করেন।

গত বছরের ফাইনালে আমেরিকার ম্যাডিসন কিসের কাছে হেরে 'থ্রি-পিট' (টানা তিনবার জয়) করার সুযোগ হারিয়েছিলেন সাবালেঙ্কা। এবারও হারের বেদনায় তাকে স্তব্ধ দেখাচ্ছিল। তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢেকে তিনি নিজের আবেগ সামলানোর চেষ্টা করেন। 

সাবালেঙ্কা রিবাকিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তোমার অবিশ্বাস্য টেনিস এবং এমন অর্জনের জন্য অনেক অভিনন্দন। এখানে খেলতে পারা আমার জন্য সব সময়ই আনন্দের। আশা করি আগামী বছরটি আমার জন্য আরও ভালো হবে।