ই-বর্জ্য নিয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ইলেকট্রনিক বা ই-বর্জ্যের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। অথচ, বাতিল ইলেকট্রনিক পণ্য আধুনিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করতে, তা হতে পারে দেশের সম্পদ। 

কেবল এই খাতেই বছরে আয় হতে পারে কমপক্ষে আড়াই হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দেশে প্রযুক্তি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। 

সেই সুযোগে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে এসব অব্যবহৃত বা ফেলে দেয়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী। ভাঙারির দোকান থেকে সেসব পৌঁছে যায় বিভিন্ন দেশে।

ডিজিটাল বাংলাদেশে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নানা রকম প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার। বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে যেমন প্রযুক্তি পণ্য আসছে। তেমনি দেশেও তৈরি হচ্ছে। 

কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর স্বাভাবিক নিয়মেই এসব পন্য অকেজো হয়ে পড়ে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় খুব কম হলেও, বাংলাদেশে এখন বছরে প্রায় পাঁচ লাখ টন ই-বজ্য তৈরি হচ্ছে। 

২০৩০ সাল নাগাদ সংখ্যাটা হবে দ্বিগুনেরও বেশি। উন্নত দেশগুলো এখন আধুনিক উপায়ে ই-বর্জ্য রিসাইকেল বা প্রক্রিয়াজাত করছে। 

কিন্তু বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা না থাকায় বাতিল হওয়া প্রযুক্তি পণ্য দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাচার হওয়া পণ্যেই আবার নতুন মোড়কে দেশে প্রবেশ করছে। 

আইসিটি সাংবাদিক ফোরাম মনে করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত নজরদারী থাকলে ই-বর্জ্য পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। তবে তার আগে গড়তে হবে ই-বর্জ্য শোধনাগার।

ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করা উদ্যোক্তারা বলেন, সরকারের সহযোগি পাওয়া গেলে দেশেই এমন রিসাইকেল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। 

নষ্ট বা অচল মোবাইল, ব্যাটারি, টেলিভিশন, ফ্রিজ এসি গাড়ি আর পুরাতন জাহাজের যন্ত্রাংশের ক্ষতিকর পদার্থগুলো মাটি পানি ও বাতাসে মিশে দেশে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুকি তৈরি করছে।


একাত্তর/এআর