দু’দিন ধরে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের জটিলতায় মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট যাচাই কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সমস্যা সমাধান চেয়ে এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগে চিঠি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মে মাসে দুই দফায় ৩৫ ঘণ্টা এবং মার্চ ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই বার সার্ভার বিকল ছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেও প্রায় ১৩ দিন এনআইডি সার্ভার ডাউন ছিল৷
এনআইডি সার্ভারে প্রায় ১১ কোটি ভোটারের তথ্য, ছবি ও আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক্স) সংরক্ষিত আছে। টেলিকম, ব্যাংক, বীমা, রাজস্ব বোর্ড, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সেবা খাতের প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংক্রান্ত সেবা জাতীয় পরিচয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল।
সেবা প্রদানকারী এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের দেওয়া তথ্য নির্বাচন কমিশনে সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। সার্ভার বিকল থাকলে এসব সেবা বাধাগ্রস্ত হয়।
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব জানিয়েছে, রোববার রাত থেকে এনআইডি সার্ভার বিকল রয়েছে। এতে তাদের সিম নিবন্ধনসহ ৮টি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
অ্যামটব মহাসচিব লে কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি সার্ভারের মাধ্যমে মোবাইল গ্রাহকদের পরিচয়পত্র যাচাই করে সিম কার্ড সংক্রান্ত সেবা যেমন সিম রেজিস্ট্রেশন, সিম প্রতিস্থাপন, এমএনপি, রোমিং সেবা, মালিকানা বদল ইত্যাদি সেবা প্রদান করা হয়। তবে সম্প্রতি ইসির সার্ভার ডাউন থাকায় মোবাইল গ্রাহকেরা উপরিউক্ত সেবাগুলো নিতে পারছেন না।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের সার্ভার ঠিক আছে, তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার স্লো পাওয়ায় আমাদের কাজ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সিলেট সিটি নির্বাচনের প্রতিপক্ষ যেন বৃষ্টি!
ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মো. আশরাফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। বুধবারের মধ্যে জটিলতা কমতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একাত্তর/আরএ
