বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বারি-৪ ও বারি-৫ জাতের তিল আবাদে সাফল্য এসেছে ফরিদপুরে। স্থানীয় জাতের চেয়ে এ জাতের তিলে ফলন প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় এই দুই জাতের তিল আবাদে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই নতুন জাতের তিল উৎপাদন বাড়লে ভোজ্যতেলের আমদানি-নির্ভরতা কমবে।
কয়েক বছর ধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন মাঠে চাষ হচ্ছে বারি-৪ জাতের তিল। মাটি ও আবহাওয়া এ তিল চাষের উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। এবছর যোগ হয়েছে বারি-৫ জাতের তিল।
দেশি জাতের তুলনায় নতুন এই তিলের ফলন হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বিরূপ আবহাওয়ায় টিকে থাকতে সক্ষম হওয়ায় এই জাতের তিল আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।
তিল চাষিরা জানান, আমরা সামনে আরও বেশি করে তিল চাষের কথা ভাবছি।
বিজ্ঞানীদের জানান, নতুন জাতের তিলের গাছ আকারে বড় এবং ফলনও বেশী। রোগ সহনশীল এ জাতের তিল থেকে তেল সংগ্রহের পরিমাণও বেশি।
ফরিদপুরের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম আহমেদ বলেন, নতুন জাতে তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ৪২ থেকে ৪৮ শতাংশ তেল থাকে।
গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কাজ করে যাচ্ছি।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিয়াউল হক জানান, দেশীয় জাতের বদলে নতুন এই জাতের তিল চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে চায়না জালের ছড়াছড়ি, বিপন্ন দেশি মাছ
এবছর পাঁচ হাজার দুইশ ৬৭ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে তিন হাজার আটশ’ ১২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের তিল।
একাত্তর/আরএ
