কোরবানি ঈদের তিন দিনে সাড়ে পাঁচ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন ট্যানারি মালিকরা। তবে চাহিদা না থাকায় এবার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ পিস ছাগলের চামড়া নষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন আরও জানিয়েছে, সরকারের নজরদারি থাকায় এবার চামড়া বাণিজ্যে তেমন কোন নৈরাজ্য হয়নি। এতে করে কিছুটা হলেও এই শিল্পে সুদিন ফিরবে।
বুধবার সকালে পুরনো ঢাকার পোস্তায় গিয়ে দেখা গেলো, ঈদের তৃতীয় দিনে ৪০টি ছাগলের চামড়া নিয়ে এক আড়ত থেকে আরেক আড়তে ঘুরেছেন তিন মৌসুমী ব্যবসায়ী।
কোথাও বিক্রি করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত দ্বারস্থ হলেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কাছে। তবুও বিক্রি হয়নি ছাগলের চামড়া। কারণ, এই ধরনের চামড়ার কোন চাহিদা নেই।
এ বছর কোরবানির দিন প্রতি পিস ছাগলের চামড়ার দাম উঠেছিলো সর্বোচ্চ দশ টাকা। শেষের দুদিন সেই দামও মেলেনি। তাই ছাগলের চামড়া রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন বিক্রেতারা।
এবার প্রতি পিস গরুর চামড়া তিনশ’ থেকে সাড়ে আটশ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বেশিরভাগ মৌসুমী ব্যবসায়ী।
যদিও বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে, সরকারের বেঁধে দেয়া দামেই চামড়া কিনেছেন তারা। এনিয়ে সরকারের নজরদারিও কড়া ছিলো।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, ছাগলের চামড়ার বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমেছে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে নেয়া হলেও ছাগলের চামড়ার ইউনিট নেয়া হয়নি।
তিনি জানান, সাভারে তাদের পাঁচ থেকে ছয়টি কারখানা আছে, যারা ছাগল ও খাসির চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে। সেটার বিরূপ প্রভাব কয়েক বছর ধরে পড়েছে।
এবার লাখ খানেক পিস চামড়া কেনার কথা ছিলো আড়তদারদের। আর ট্যানারি মালিকদের এক কোটি পিস। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, কোরবানি কম হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।
কাঁচা চামড়া সংগ্রহে এবার ট্যানারিগুলো রেকর্ড করেছে উল্লেখ করে শাহীন বলেন, ঈদের দিন এবং পরের দিন মোট দুদিনে ট্যানারি মালিকরা সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর ঈদের দুদিনে তিন লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছিলো। সেই হিসাবে এবার প্রথম দুদিনে গত বছরের চেয়ে আড়াই লাখ পিস বেশি চামড়া সংগ্রহ হয়েছে।
ট্যানারি মালিকদের শীর্ষ এ সংগঠন জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে হাট থেকে লবণযুক্ত চামড়া কিনবেন তারা। যা চলবে আগামী তিন মাস।
বিভিন্ন হাট ধরে চামড়া সংগ্রহ শুরু করবে বিটিএ। বিভিন্ন জায়গায় লবণ দিয়ে রাখায় চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে এ বছর।
বিটিএ জানিয়েছে, এবারের ঈদে পাঁচ থেকে ছয় লাখ বকরির চামড়া নষ্ট হয়েছে। তাই ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের আশা করছে ট্যানারি মালিকরা।
শাহিন আহমেদ বলেন, আমরা মনে করি, সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার ঈদের আগেই সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো হয়েছিল সেটা যুগোপযোগী হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছিল সেটার প্রভাব মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে। বিভিন্ন উপজেলায় চামড়া সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
আরেকটি ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকার ভেতরে সাত দিন চামড়া ঢুকতে না দেয়া। ট্যানার্সদেরও সে রকম সক্ষমতা নেই যে এক দুদিনে লাখ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে আবারও প্রাণ ফিরে পেলো মাওয়া ঘাট
এমনকি লুকিয়ে থাকা ব্যবসায়ীদেরও সেই সক্ষমতা নেই। সেই কারণে বিভিন্ন জেলায় চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
শাহীন আরও বলেন, জেলা এতিমখানা-মাদ্রাসায় দেখা যায় লবণ দেওয়ার প্রবণতা কম। তারা রক্তযুক্ত চামড়া বিক্রি করেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে রাতে টেন্ডার করে বিক্রি করেছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করে চামড়ার সুদিন ফেরাতে হলে ব্রান্ড বায়ারদের কাছে আবারও ফিরে যেতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা নিলে এক বছরের মধ্যেই বাজার ফেরানো সম্ভব।
একাত্তর/এসজে