হাসপাতালে শেকল বাঁধা ইয়াসির, সুস্থ হবার আশাবাদ

শেকলে বাঁধা জীবন থেকে মুক্ত হতে চিকিৎসা শুরু হলো ইয়াসিরের। ১৪ বছরের এই কিশোরকে নিয়ে একাত্তরে প্রতিবেদন প্রচারের পর তাকে চিকিৎসা করার আগ্রহ জানায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট।

সেখানে ভর্তির পর প্রাথমিক লক্ষণ বিচার করে ডাক্তাররা বলছেন, ইয়াসিরের বয়স অনুযায়ী তার মানসিক বিকাশ ঘটেনি; তবে, চিকিৎসায় কিছুটা হলেও তাকে সুস্থ করা সম্ভব।

একাত্তরের প্রতিবেদন প্রচারের পর আবারও বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় ইয়াসির। তবে চারদিন পর নিজেই বাড়ি ফিরে আসে। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে তার বাসায় হাজির হয় একাত্তর।

yeasir1

পরিবারও রাজি ইয়াসিরের চিকিৎসায়। তাই বড় বোন সুখী বেগমকে সাথে নিয়ে ইয়াসিরের নতুন গন্তব্য হয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনিস্টিটিউটে।

আউটডোরের টিকেট কেটে ইয়াসিরকে নেয়া হয় হাসপাতালের মহাপরিচালকের কক্ষে। সেখানে প্রাথমিক লক্ষণ বিচার করে ইয়াসিরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতা চিহ্নিত করেন চিকিৎসকরা।

এ ধরনের সমস্যা সমাধানে দরকার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মহাপরিচালক। এরপর ইয়াসিরকে পাঠানো শিশু-কিশোর মনরোগ বিভাগে।

yeasir2

নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার তাকে ভর্তির সুপারিশ করেন চিকিৎসকরা। জানান অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। এ ধরনের রোগীরা যত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেয়া যায় সুস্থ হবার সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

বড়বোন সুখী বেগম বলছিলেন, তারা না বুঝে কবিরাজ আর ঝাড় ফুঁকের পেছনে অনেক টাকা আর সময় নষ্ট করেছেন। আর ইয়াসির জানিয়েছেন, শেকলের এই ওজন তার আর ভালো লাগেনা। শেকল মুক্ত হয়ে এবার স্কুলে যেতে চান ইয়াসির।

এবার শেকল মুক্ত পায়ে হাঁটতে আর মাঠে ফুটবল খেলার স্বপ্ন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ইয়াসির।