লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় ওই নারীর ননদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে স্বামী-শাশুড়ি-ননদসহ চার জনের নামে মামলা দায়ের করেন এই নারী।
পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, নির্যাতনের প্রায় ১৫ ঘণ্টার পর গৃহবধূ রুমা আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। তবে এর আগেই চলে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন।
যৌতুক না পেয়ে হাত-পা বেঁধে বেদম পেটানোর পর রুমার মাথার সামনের অংশের চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয় স্বামী হাসান, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামী।
বর পেয়ে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনির হোসেন সজিব এগিয়ে আসেন। পরে গৃহবধূ রুমাকে চররমনী মোহন ইউনিয়ন এলাকায় তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গৃহবধূ। খবর পেয়ে পুলিশ গৃহবধূকে উদ্ধারের পাশাপাশি তার ননদ পাখি বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।
সাড়ে তিন বছর আগে ভোলার ইলিশা এলাকার বাসিন্দা আলমগীরের মেয়ের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর সদরের চররমনী মোহন এলাকার কাঞ্চন মাঝির ছেলে হাসানের বিয়ে হয়।
রুমা আক্তার বলেন, হাসান আমার পরিবারের কাছ থেকে এর আগে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়েছে। এখন আবার তিন লাখ টাকা দেয়ার জন্য আমাকে চাপ দেয়।
এতে সায় না দিলে মা-বোনকে নিয়ে রুমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন হাসান। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে নির্যাতন চালায় হাসান।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী আটক
বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে কাঁচি দিয়ে গৃহবধূর চুল কেটে দেয় বাড়ির সবাই মিলে। পরে পুলিশকে যেন খবর দিতে না পারে, সেজন্য গৃহবধূকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁধে রাখেন তারা। বাড়িতে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান।
গৃহবধূ রুমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি। রোববার রাতে নির্যাতনের ১৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের সহযোগিতায় উদ্ধার হন তিনি। তা না হলে তাকে মেরেই ফেলত তারা।
পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, পুলিশ এরই মধ্যে নির্যাতনের মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।