পঞ্চগড় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের নিয়োগে ঘুষ ও জালিয়াতির মামলায় এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি জোগসাজস করেছিলেন।
রোববার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মণ্ডলের আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওই চেয়ারম্যানের নাম সাইফুল ইসলাম দুলাল। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার আট নম্বর ধাক্কামাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাড. আব্দুল হান্নান এ খবর জানিয়েছেন।
এর আগে, গত বছরের ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া বাদি হয়ে এই ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নেরতেলীপাড়া এলাকার মোছা. ইয়াসমিন (২১), একই ইউনিয়নের নলপুকুরী গ্রামের মৌসুমী আক্তার (২৮), এএইচআর মাসুদ রয়েল (২৮) এবং সাইদুর রহমান (২৪)। তারা প্রত্যেকেই জামিনে রয়েছেন।
মামলায় জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর পঞ্চগড়ে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষায় ইয়াসমিন এবং মৌসুমী উত্তীর্ণ হন। নিয়ম অনুযায়ী তারা ২৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন। কিন্তু তাদের কথা বার্তায় অসংলগ্নতা প্রকাশ পায়। এক পর্যায়ে তাদের লিখতে দেওয়া হয় কিন্তু লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে তাদের লেখার মিল না থাকায় নিয়োগ বোর্ডের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, তাদের হয়ে অন্য কেউ লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: লাইসেন্স ফিসহ ৫১ সেবার মূল্য বাড়ালো বিআরটিএ
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, তার ভাই সাইদুর রহমান এবং স্বামী এএইচআর মাসুদ রয়েল তাকে লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে পাস করাতে সহায়তা করেছেন। পরে ভাইবা বোর্ড কৌশলে সাইদুর এবং মাসুদ রয়েলকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা জানান- পঞ্চগড় সদরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয় ইয়াসমিনের চাকরির জন্য।
একাত্তর/এসি