ঋতুচক্রের অমোঘ নিয়মে এখন চৈত্র মাস। চারদিকে যখন তীব্র দাবদাহ আর খাঁ খাঁ রোদে জনজীবন অতিষ্ঠ হওয়ার কথা, ঠিক তখনই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দেখা মিললো এক ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ দৃশ্যের।
বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত এই জনপদ ঢাকা ছিলো ঘন কুয়াশার চাদরে। বসন্তের বিদায়লগ্নে কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসের সংমিশ্রণে স্থানীয়দের মধ্যে অনুভূত হয়েছে হালকা শীতের পরশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে জেলাজুড়ে এক অদ্ভুত আবহ দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তারা চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা দেখতে পান। দৃশ্যমানতা এতোটাই কম ছিলো যে, মনে হচ্ছিলো এটি কোনো পৌষ বা মাঘ মাসের কনকনে শীতের সকাল। চৈত্রের শেষে এমন শীতকালীন আবহাওয়া দেখে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে এ অঞ্চলে তাপমাত্রার যে ওঠানামা চলছে তা হলো- সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকাল ৯টার পর কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছে না সহজে। দিনভর মেঘের আড়ালে সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলায় গরমের প্রকোপ একদমই নেই।
আকস্মিক এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, এটি মূলত বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের ফলাফল।
তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে জলীয়বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে এই কুয়াশা তৈরি করেছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে চৈত্রেও এমন শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই ধরনের পরিস্থিতি বা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। চৈত্রের খরতাপের বদলে হিমেল হাওয়ার এই পরশ সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি আনলেও প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ ভাবিয়ে তুলছে অনেককে।
