লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে ২১১টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬১টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং বাকি ৫০টি ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া ক্ষেতে থাকা কাঁচাপাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।
শনিবার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইউনুস মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাব কেটে যাওয়ার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে। ঝড়ে ১৬১টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫০টি কাঁচাঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে।
টানা বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ধানের ক্ষেতে পানি জমে গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। এতে উঠতি আমন ধান এবং শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে বন্ধ থাকা লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল শনিবার সকাল থেকে চালুর পর চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এছাড়া শুক্রবার সকাল থেকে জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা গাছ কেটে আপসারনের চেষ্টা করছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বৃষ্টি আর বাতাসে আমনের বীজ ও শীতকালীন সবজি চাষের জমিগুলোতে পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে লক্ষ্মীপুরে পল্লী বিদ্যুতের অনেক ক্ষতি করে দিয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’।
জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জাকির হোসেন বলেন, কয়েকটি স্থানে ক্ষেতে থাকা আমন ধানের গাছ ভেঙে পড়েছে। আমন ও সবজি ক্ষেতে পানি জমে আছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ধানসহ ফসলের ক্ষতি কম হবে।
তিনি জানান, জেলাতে ৮৩ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। শীতের সবজির আবাদ হয়েছে তিন হাজার হেক্টর জমিতে। ক্ষেতের আমন ধান এখনো কাঁচা। এ পর্যন্ত ৬ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ঝড় থেমে যাওয়ার সঙ্গ সঙ্গে লাইনম্যান এবং কর্মীরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ শুরু করে। ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে আমাদের একশটির বেশি খুঁটি পড়ে গেছে।
গাছপালা পড়ে তিনশর বেশি স্পটে তার ছিঁড়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে আমাদের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। এতে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, পূর্বপ্রস্তুতি ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাব মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলায় ১০ লাখ ৫ হাজার ২৫০ জনের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ২৮৯টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টি স্থায়ী ও ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। এ কেন্দ্রগুলো রয়েছে। ত্রাণের জন্য চাল মজুদ রাখা হয়েছিলো ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ৪৭০ মেট্রিক টন। এছাড়া শিশু ও গো-খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ ছিলো।
তিনি আরও জানান, স্বপ্নযাত্রার ১৭টি অ্যাম্বুলেন্সসহ সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রস্তুত রাখাসহ জরুরি প্রয়োজনীয় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর চালু ছিলো