ঢাকার মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে এক দম্পতি ও তাদের সন্তানসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা ছেলের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। জানতে খোঁজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন- লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা বেপারি বাড়ির মনির হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৫) এবং তাদের একমাত্র ছেলে আরাফাত হোসেন নাইম (১৪)।
রোববার (২৯ জুন) সকালে মগবাজারের সুইট স্লিপ নামের ওই হোটেল থেকে প্রথমে স্বপ্না ও আরাফাতকে উদ্ধার করে পাশের আদ দ্বীন হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে মনির অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হলে সেখানে তারও মৃত্যু হয়।
তাদের পরিবার জানায়, শনিবার মনির হোসেন পরিবার নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশে ঢাকায় যান। নির্ধারিত চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ায় তারা মগবাজারের ওই হোটেলে রাত কাটান। রোববার সকালে মনির হোসেন পরিবারের এক স্বজনকে ফোন করে জানান, তারা তিন জনেই বমি করছেন এবং শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। খবর পেয়ে স্বজনরা হোটেলে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার পর হোটেল কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার দিকেই সন্দেহ করছি। তবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রয়োজন। তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ইতিমধ্যে তাদের রুমের এবং পুরো হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এ ছাড়া হোটেলের আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা খাদ্যে বিষক্রিয়া। দ্বিতীয়ত তাদের কেউ বিষাক্ত খাবার খাইয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি।
হোটেল সুইট স্লিপের সহকারী ম্যানেজার আব্দুল মানিক সাংবাদিকদের জানান, শনিবার বিকেলে মনির হোসেন তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে হোটেলে আসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আদ দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যান। সেখান থেকে রাতেই হোটেলে আসেন। তাদের সঙ্গে তাদের এক কেয়ারটেকারও ছিলেন। কেয়ারটেকার তাদের দেখাশোনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন হোটেল থেকে খাবার এনে দিতেন। সেই খাবারই তারা খেয়েছেন। তারা কখন অসুস্থ হয়েছেন, তা হোটেলের কেউ টের পাননি। কেয়ারটেকার প্রথমে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান, এরপর ওই পুরুষকেও নিয়ে যান। তখন হোটেলের সবাই বিষয়টি জানতে পারেন।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ঘটনাটি ঢাকায় হওয়ায় এখান থেকে সরাসরি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। মরদেহগুলো এখনও এলাকায় এসে পৌঁছায়নি।