জামালপুরে যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলায় পানিবন্দি হয়ে আছে লক্ষাধিক মানুষ। বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক যোগাযোগ। তলিয়ে আছে বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবারসহ গোখাদ্যের সঙ্কট।
এদি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ ও বকশিগঞ্জ উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি।
এছাড়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। বন্যার পানিতে বহু এলাকা এখনও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
বন্যার কারণে জেলার দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়েছে। আউশ ধান, মরিচ, সবজি, পাট, ভুট্টা ও বীজতলাসহ তলিয়ে গেছে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি।
বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে ৫৩৫ মেট্টিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে দাবি দুর্গতদের। পাশপাশি বন্যা দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক শিশুসহ দুইজন মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এদিকে সোমবার বন্যা কবলিতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি। ওই দিন ইসলামপুরের কুলকান্দি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বানবাসী ৪০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত ধীরগতিতে বন্যার পানি কমবে। ১২ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত উজানে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। তবে ১৫ তারিখের পর বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হতে পারে।