গাইবান্ধায় গত দুই দিন বৃষ্টি না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
অপরদিকে, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদ সীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে দিয়ে বইছে।

আর করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং এদিকে তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন কাউনিয়া পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে গাইবান্ধার চার উপজেলা- সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটার ২৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি।
সদর উপজেলার কামারজানি, ঘাগোয়া, ফুলছড়ি উপজেলার এরান্ডাবাড়ি, ফজলুপুর, কঞ্চিপাড়া ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, তারাপুর, হরিপুর ইউনিয়সহ এসব এলাকায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে যায়নি। এসব এলাকার ফসলী জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে আছে। হাঁটু ও কোমর পানির নিচে এসব এলাকার মানুষের বাড়িঘর। শুকনো জায়গা না থাকায় রান্না করতে পারছেন না অনেকেই। ফলে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কটে পড়েছেন তারা। এছাড়া নারীদের টয়লেট ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিপাকে রয়েছেন।
