গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নেত্রকোনার সদর উপজেলার শিবপ্রসাদপুর গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধ রুস্তম আলী ও তাঁর চার এতিম নাতি-নাতনির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বৃদ্ধ রুস্তম আলীর বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিজা খাতুন। একই সঙ্গে পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নিয়তির নির্মম পরিহাসে গত এক বছরের ব্যবধানে নিজের একমাত্র ছেলে, পুত্রবধূ এবং স্ত্রীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ৮৫ বছর বয়সী রুস্তম আলী। এই বয়সে নিজেরই অন্যের সহমর্মিতা ও পরিচর্যা প্রয়োজন, সেখানে চারজন অবুঝ নাতি-নাতনির অন্ন, বস্ত্র ও মাথা গোঁজার দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। একসময় বেতের কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করলেও বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন আর সেই কাজ করার সামর্থ্য নেই তাঁর। কোনো নিয়মিত আয় না থাকায় চার শিশুর খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ জোগাতে প্রতিদিন এক করুণ সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল তাঁকে। কখনো একবেলা খাবার জুটলে অন্যবেলা অনাহারে দিন কাটাতে হতো পুরো পরিবারকে।
পরিবারের বড় নাতির শারীরিক ও মানসিক সমস্যা রয়েছে; টাকার অভাবে মৃগীসহ নানা জটিল রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে, চরম অভাবের তাড়নায় বড় নাতনির নিজের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেলেও সে ছোট দুই বোনের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। স্থানীয়দের সামান্য সহযোগিতায় দিন পার হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই এতিম শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে আসছিল।
পরিবারটির এই করুণ ও মর্মস্পর্শী দুরবস্থার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নেত্রকোনা সদর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। ইউএনও মনিজা খাতুন শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী আশরাফুল আলম সানির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন।
৮৫ বছর বয়সে এসে সন্তান ও স্ত্রী হারানোর গভীর শোক এবং চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করা রুস্তম আলীর এই কষ্টের অবসান চান স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি চার শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ, নিয়মিত চিকিৎসা ও পড়াশোনা সুনিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এই পরিবারের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।