তিলোত্তমার মায়ের জয়ে মুখ খুললেন মিমি!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যেমন রাজনৈতিক মহলে সুনামি বইয়ে দিয়েছে, তেমনই বিনোদন জগতের অলিন্দেও লেগেছে তার তপ্ত আঁচ। তবে সব ছাপিয়ে এখন আলোচনায় আরজি করের সেই অভিশপ্ত ঘটনার নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনী জয়। আর এই জয়কে ঘিরেই এক ‘বিস্ফোরক’ ও আবেগঘন মন্তব্য করে নেটপাড়া কাঁপিয়ে দিয়েছেন টলিউডের গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

mimi chakraborty
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের মঞ্চে এবার এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। আরজি কর মেডিকেল কলেজের সেই নৃশংস ঘটনার বিচার চেয়ে লড়াকু মা এবার রাজনীতির ময়দানে জয়ী হয়েছেন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই যেন বাঁধ ভাঙল মিমি চক্রবর্তীর আবেগের।

এক সময় শাসক দলের সাংসদ থাকলেও, আরজি কর ইস্যুতে মিমির অবস্থান ছিল আগাগোড়াই আপসহীন। নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনী জয়ের খবর শেয়ার করে মিমি সোজাসুজি জানিয়ে দিলেন, এই জয় তাঁর কাছে ‘অত্যন্ত ব্যক্তিগত’।

mimi chakraborty
আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই মিমি চক্রবর্তীকে দেখা গিয়েছিল একদম অন্য মেজাজে। গ্ল্যামার সরিয়ে রেখে বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন তিনি। আর তার মাশুলও দিতে হয়েছে কড়াভাবে।

নেটদুনিয়ায় একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্য থেকে শুরু করে সরাসরি হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী যে মিমি নন, তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন। প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মিমি বুঝিয়ে দিয়েছেন, হুমকি দিয়ে তাঁর কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

mimi chakraborty
২০১৬ সালে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়লেও সেবার জয় ধরা দেয়নি। কিন্তু এবার নির্যাতিতার মা জয়ী হতেই মিমি লেখেন, এই জয় আমার কাছে খুবই ব্যক্তিগত। তবে, জয়োল্লাসের মাঝেও একজন মায়ের মনের ক্ষতকে ভুলে যাননি তিনি।

মিমি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই নির্বাচনী সাফল্য বা রাজনৈতিক গদি কখনোই একজন মায়ের সেই অপূরণীয় ক্ষতি বা হারানো সন্তানের অভাব পূরণ করতে পারবে না।

mimi chakraborty
২০১৯ সালে যাদবপুর থেকে রেকর্ড ভোটে জেতা মিমি ২০২৪ সালের লোকসভার আগেই দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কাছে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। সেই সময় অনেকে বাঁকা চোখে দেখলেও, আরজি কর ইস্যুতে মিমির এই নির্ভীক ও মানবিক অবস্থান আমজনতার মনে তাঁর জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। নিজের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে যে তিনি পিছপা হন না, তা এই বার্তার মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হলো।

mimi chakraborty
অভিনেত্রী থেকে নেত্রী মমি চক্রবর্তীর এই ‘বেপরোয়া’ স্টাইল এবং তিলোত্তমার পরিবারের প্রতি তাঁর সংহতি এখন টলিউড ছাড়িয়ে রাজনীতির অন্দরেও তুমুল চর্চার বিষয়। মিমির এই সাহসিকতাকে নেটিজেনরা যেমন কুর্নিশ জানাচ্ছেন, তেমনই বিরোধী শিবিরও এই ইস্যুতে তাঁর মন্তব্যে নতুন সমীকরণ খুঁজে পাচ্ছে।