ফিল্ম আর্কাইভে প্রদর্শিত হবে 'ওমর ফারুকের মা'

'মা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ১৩ মে বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে প্রদর্শিত হবে সরকারি অনুদানে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'ওমর ফারুকের মা'। এদিন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে চলচ্চিত্রটি সংরক্ষণ ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হবে।  

'ওমর ফারুকের মা' ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। 

চলচ্চিত্রের পরিচালক এম এম জাহিদুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, 'ওমর ফারুকের মা' দেখলে মানুস মুক্তিযুদ্ধের আর একটি টুকরো চিত্র সম্পর্কে জানতে পারবে। চলচ্চিত্রটির বাণিজ্যিক কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই। 

প্রদর্শনী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশ্ববিখ্যাত জাদু শিল্পী, শহীদ ওমর ফারুকের বাল্যবন্ধু জুয়েল আইচ; হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি, (টুরিস্ট পুলিশ প্রধান) বাংলাদেশ পুলিশ; মোঃ ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; সাবিহা পারভীন, নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ); মোজাম্মেল বাবু, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক, একাত্তর টেলিভিশন। 

উল্লেখ্য যে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 'ওমর ফারুকের মা' স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হবে।  

চলচ্চিত্রের গল্পটি পিরোজপুরের জেলার আমড়াঝুড়ি কাউখালী উপজেলার আশোয়া আমড়াঝুড়ি নামক স্থানের একজন মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক আর তার মায়ের। 

ওমর ফারুক ২১ বছরের যুবক, ছিলেন পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। 

১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ পিরোজপুরের টাউন ক্লাব চত্বরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক, পুড়িয়ে ফেলেন শহরের যত পাকিস্থানী পতাকা। এক সন্ধ্যায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে পিরোজপুরের ট্রেজারি ভেঙে লুট করেন অস্ত্র। আত্মগোপনে থেকে সুসংগঠিত করতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাদের। 

যুদ্ধের সময় এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিল রাত্রে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবে। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। সেই রাত্রেই তিনি পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ধরা পড়ার সময় তার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের ৭টি পতাকা পায় পাক সেনারা। পাক হানাদার বাহিনীর হাতে  মৃত্যু হয় তার। 

একটি পতাকা মাথায় হাতুড়ি পেটা করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তার, শহীদ হয় ওমর ফারুক,ভাসিয়ে দেয়া হয় তার লাশ কীর্তনখোলা নদীতে।

৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে, পার হয় নাই ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা! মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাড়িতে ভাত বসান, রাত্রে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়, ছেলে আসবে সেই বিশ্বাসে।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে 'ওমর ফারুকের মা'-এ মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ত্ব দিলারা জামান। 

তাছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলিতে অভিনয় করছেন বন্যা মির্জা, সাহেদ শরীফ খান, খাইরুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, সালমা রহমান, আইনুন পুতুল,রিপন চৌধুরী, কাজী রাজু, সৈয়দ শুভ্র, মুকুল সিরাজ, এ বি এম মোতাহারুল ইসলাম, প্রণব ঘোষ, রোশেন শরিফ ও তুহিন আহমেদ সহ আরো অনেকে।  


একাত্তর/এআর