বলিউডের বিতর্কিত নতুন চলচ্চিত্র আদিপুরুষ থেকে দুটি লাইন না সরানো পর্যন্ত নেপালের দুই শহরে বলিউডের আর কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে না বলে জানিয়েছেন ওই দুই শহরের মেয়র।
আদিপুরুষের নির্মাতারা বলেছেন, চলচ্চিত্রটি হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণ থেকে অনুপ্রাণিত। রামায়ণে রাবণ হিন্দু দেবতা রামের স্ত্রী সীতাকে অপহরণ করার পর রাবণের উপর রামের বিজয়কে চিত্রিত করা হয়েছে।
আদিপুরুষ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রদের নামকরণ করা হয়েছে রাঘব, লঙ্কেশ এবং জানকী।
কাঠমান্ডু এবং পোখারার মেয়র জানকীকে ‘ভারতের কন্যা’ বলে অভিহিত করা একটি লাইনের সমালোচনা করেছেন।
নেপালের হিন্দু জনগোষ্ঠীর লোকজন বিশ্বাস করেন, সীতা রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে জনকপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ রোববার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, তিনি শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলোকে বলিউডের সমস্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ করতে বলেছেন।
তিনি আদিপুরুষের নির্মাতাদের সংলাপটি সরাতে বলেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, কাঠমান্ডু পৌরসভা এলাকায় কোন ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না যতক্ষণ না ফিল্ম থেকে এই আপত্তিকর অংশটি সরানো না হয়।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, পোখারা মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র ধনরাজ আচার্যও প্রেক্ষাগৃহগুলোকে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ করতে বলেছেন।
চলচ্চিত্রটির সহ-লেখক মনোজ মুনতাশির শুক্লা রোববার বলেন, কিছু সংলাপ পুনরায় লেখা হবে কারণ সেগুলো দর্শকদের ‘আহত’ করেছে, তবে তিনি ভারত না নেপালের দর্শকদের উল্লেখ করছেন তা স্পষ্ট নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি আদিপুরুষের জন্য চার হাজারেরও বেশি লাইনের সংলাপ লিখেছি, কিন্তু পাঁচটি লাইন কারও কারও অনুভূতিতে আঘাত করেছে’।
এএনআই আরও জানিয়েছে, ছবিটির প্রযোজক টি-সিরিজ মিস্টার শাহকে চিঠি লিখেছেন, ‘কোনো অসম্প্রীতি সৃষ্টি করার’ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
ভারতীয় তারকা প্রভাস, কৃতি স্যানন এবং সাইফ আলি খান অভিনীত আদিপুরুষ শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার পরপরই সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।
বেশ কিছু ভারতীয় দর্শক এর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের পাশাপাশি কিছু সংলাপের সমালোচনা করেছেন, যা তাদের মতে মহাকাব্যের অনেক সম্মানিত চরিত্রকে অসম্মান করেছে।
শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করার আহবান জানানো হয়েছে, তবে টি-সিরিজ শনিবার টুইট করেছে যে ছবিটির ‘বাম্পার ওপেনিং’ হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতির কাছে 'আদিপুরুষ' নির্মাতার ক্ষমা চাওয়া উচিত: প্রিয়াঙ্কা
অনেক বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাও ছবিটির সমালোচনা করেছেন এবং কেউ কেউ এটিকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চলচ্চিত্রটির নির্মাতারা বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এটি ভারতে নির্মিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি এবং এটি ছয় হাজারেরও বেশি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে। এটি একই সাথে হিন্দি এবং তেলেগুতে শ্যুট করা হয়েছে এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় ডাব করা হয়েছে।
একাত্তর/এসজে