অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবরকে গুজব বললেন মেয়ে

একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর দেয়া হলেও তার মেয়ে এশা দেওল বলেছেন, খবরটি গুজব। ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, অভিনেতার অবস্থা স্থিতিশীল।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ইন্ডিয়া টুডে, মিড ডেসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলিউডের প্রথম ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র।

এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে শ্বাসকষ্টের কারণে ধর্মেন্দ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

dharmendra2

এর আগে সোমবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তাকে কেবল রুটিন চেকআপ ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

তবে এরপর আজ সকাল থেকেই তার মৃত্যুর খবর আসে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে, যা পরে নাকচ করলেন তার মেয়ে এশা দেওল।

১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে ধর্মেন্দ্রর। এরপর ‘ফুল অউর পাথর’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’ ও ‘শোলে’-র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই শীর্ষ অভিনেতার স্থানে পৌঁছে যান।

সত্তর দশকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষদের একজন হিসেবে আখ্যায়িত করে। বলিউডে তিনি পরিচিত হন ‘হি-ম্যান অব ইন্ডিয়া’ নামে।

‘শোলে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘গুলামি’, ‘তহলকা’সহ অসংখ্য সুপারহিট ছবিতে তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে অম্লান দাগ রেখে যায়।

নব্বইয়ের দশকে তিনি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ে মনোযোগ দেন এবং পরে দুই ছেলে সানি ও ববির সঙ্গে ‘আপনে’ ও ‘যমলা পাগলা দেওয়ানা’ সিরিজে একসঙ্গে কাজ করেন। সর্বশেষ তাকে দেখা যায় ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যাইসা উলঝা জিয়া’ ছবিতে।

dharmendra1

অভিনয়ের পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাজস্থানের বিকানের আসন থেকে বিজেপির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে ধর্মেন্দ্র দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর, দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী। দুই ছেলে সানি ও ববি দেওল প্রথম স্ত্রীর ঘরে, আর দুই মেয়ে এষা ও আহানা দেওল হেমা মালিনীর ঘরে জন্ম নেন।