বিশ্বসংগীতের অন্যতম শীর্ষ শিল্পী সেলেন ডিওন। চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ার তার। পপ, রক ঘরানার গান গেয়ে সারা দুনিয়াতেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ সিনেমার থিম গান ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ তাকে আরও জনপ্রিয়তা এনে দেয়। গানটির জন্য অস্কার, গ্র্যামি, গোল্ডেন গ্লোবসহ বড় পুরস্কারই জেতেন তিনি।
জনপ্রিয় এই তারকা কয়েক বছর ধরেই ‘নীরব’। নতুন গান কিংবা কনসার্টেও পাওয়া যাচ্ছে না তাকে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আনেন সেলেন ডিওন। জানান, এই রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তখন তিনি এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বলেছিলেন, ‘অনেক দিন ধরেই শরীর ভালো যাচ্ছে না। সম্প্রতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর স্টিফ পারসন সিনড্রোম ধরা পড়ে। এ রোগের কারণে হাঁটতে ও গান গাইতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ সমস্যা আমার জীবনের সব ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। আমি নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করে গাইতে পারছি না।’
এই রোগে মূলত পেশিতে টান পড়ে। ফলে পেশির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এই রোগে সম্পূর্ণ সেরে ওঠার পরিসংখ্যান খুব বেশি নেই। সেলেন ডিওন জানিয়েছেন, সুস্থ হতে থেরাপিস্টের সঙ্গে প্রতিদিনই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
গায়িকার এই ভিডিও বার্তার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বিবিসি, যেখানে স্টিফ পারসন সিনড্রোম অত্যন্ত বিরল একটি রোগ, যা নিরাময়যোগ্য নয়।
‘প্রতিজ্ঞা করেছি একদিন মঞ্চে ফিরবই’ এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গানে ফিরতে কতটা মরিয়া, সেটা জানান এই শিল্পী। মঞ্চে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সেলেন ডিওন লিখেছেন, ‘এই অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। কিন্তু আমি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই, প্রতিজ্ঞা করেছি একদিন মঞ্চে ফিরবই।’ একই সঙ্গে তার মতো রোগে আক্রান্ত মানুষদেরও প্রেরণা হয়ে উঠতে চান গায়িকা।
এ প্রসঙ্গে একই পোস্টে সেলেন ডিওন লিখেছেন, ‘সারা পৃথিবীর অনেক মানুষ স্টিফ পারসন সিনড্রোমে আক্রান্ত, আমি তাদের সমর্থন দিতে চাই; প্রেরণা জোগাতে চাই। তাদের বলতে চাই, আপনি সেরে উঠতে পারবেন, আমরা পারব।’
জাতিসংঘের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের তথ্যমতে, স্টিফ পারসন সিনড্রোমের কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই। অসুস্থতার কারণে গত বছরের মে মাসে কনসার্ট স্থগিত করতে বাধ্য হন সেলেন ডিওন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কনসার্টগুলো হওয়ার কথা ছিল।
চার দশকের বেশি সময় ধরে গান গাইছেন সেলেন ডিওন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গায়িকাদের একজন তিনি। এ পর্যন্ত তার অ্যালবাম ২৫০ মিলিয়নের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে আছে ‘দ্য পাওয়ার অব লাভ’, ‘থিংক টোয়াইস’, ‘বিকজ ইউ লাভড মি’, ‘ইটস অল কামিং ব্যাক টু মি নাউ’, ‘দ্যাটস দ্য ওয়ে ইট ইজ’, ‘অ্যাই অ্যাম অ্যালাইভ’ ইত্যাদি।
ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় তার প্রকাশিত অ্যালবামের সংখ্যা ২৭টি। ১৯৬৮ সালের ৩০ মার্চ কানাডার কুইবেকে জন্ম হয় সেলেন ডিওনের।