তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশগুলো। এই অঞ্চলের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর চলে যাওয়ার পর এই দাবানলের সৃষ্টি হয়।
সপ্তাহখানেক ধরে চলা দাবানল নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা রীতিমতো যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই এই দাবানলের ভয়াবহতা বাড়ছে।
পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে দমকলকর্মীরা। স্পেন ও পর্তুগালে ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষ মারা গেছেন।
দাবানলের কারণে ফ্রান্সের গিরোন্ডে অঞ্চলে ১২ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইতালিতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এদিকে স্প্যানিশ সীমান্তের কাছে উত্তর পর্তুগালের ফোজ কোয়া এলাকায় পানি দিয়ে দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন পাইলট মারা গেছেন।
দক্ষিণ স্পেনের কোস্টা দেল সোলের কাছে মিজাস পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে প্রায় দুই হাজার ৩০০ লোককে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকটি প্লেন আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) থেকে এখন পর্যন্ত পর্তুগালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্পেনেও রয়েছে ৪০-এর ওপর। পর্তুগালে দাবানলে পুড়েছে ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা।
ফ্রান্সের গিরোন্ডে অঞ্চল দাবানলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই এলাকার ১২ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শহর-গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ফ্রান্সে ১০ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে দাবানল। তিন হাজার কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে দেশটিতে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্রিসে ইউক্রেনীয় কার্গো বিমান বিধ্বস্ত
ইতালিতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। গ্রিসের ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানল থামাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মরক্কোসহ আরও কয়েকটি দেশও।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহতা সৃষ্টি হচ্ছে তারই প্রভাব পড়ছে এসব দেশে।
একাত্তর/এসজে