তিউনিসিয়ায় ‘পুলিশের অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে’ গায়ে আগুন দিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ফুটবলারের।
অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে উপস্থিত হয়ে নিজার ইসাউই নামের ওই ফুটবলার বলেন, একজন ফল বিক্রেতার সাথে বিরোধের পরে কর্মকর্তারা তাকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
আলাদা এক পোস্টে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে ‘আগুনে মৃত্যুদণ্ড’ দিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার তার নিজ শহর হাফৌজে ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিক্ষুব্ধ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে কলা কিনতে অক্ষমতার কথা জানালে ইসাউইকে পুলিশ কর্মকর্তারা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এর প্রতিবাদে ইসাউই নিজের গায়ে আগুন দেন।
একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘১০ দিনারে কলা বিক্রি করায় একজনের সাথে বিবাদের জন্য আমি থানায় সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছি। কলা নিয়ে অভিযোগের জন্য সন্ত্রাস...আমার আর শক্তি নেই। পুলিশ রাষ্ট্রকে জানিয়ে দিন যে আজ সাজা কার্যকর হবে।’
তিনি তিউনিসিয়ার টপ-ফ্লাইট দল ইউএস মোনাস্তিরের প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং চার সন্তানের পিতা ছিলেন। তার শেষকৃত্যে বিক্ষোভকারীরা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
তার ভাই স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ইসাউইর শরীরে তৃতীয়-ডিগ্রি পোড়া হয়েছিল এবং ডাক্তাররা তার জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়নি।
ইসাউইর এই প্রতিবাদ ২০১০ সালের একটি ঘটনার প্রতিধ্বনি, যখন রাস্তার ফেরিওয়ালা মোহাম্মদ বোয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন দেন। এটি তিউনিসিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায় যা পরের বছর প্রেসিডেন্ট জাইন আল-আবিদিন বেন আলীকে উৎখাত করে।
আরও পড়ুন: সুদানে লড়াই অব্যাহত, ৫৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত
বর্তমান প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত ও সংসদ স্থগিত করে বিতর্কের জন্ম দেন। এরপর থেকে তিনি একটি নতুন সংবিধানের মাধ্যমে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তবে তিউনিসিয়ার সরকার ইসাউইয়ের মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
একাত্তর/এসজে