সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রোববার বিবিসি জানায়, রাজধানী খার্তুমে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কার্যালয় এবং সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ কোনোমতে এড়িয়ে গেছেন শহরের বাসিন্দারা।
শহরে ১৭ জন বেসামরিক নাগরিকসহ ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন।
দেশটিতে বেসামরিক শাসন হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়ে উত্তেজনার পর সংঘর্ষ শুরু হয়।
সেনাবাহিনী এবং এর বিরোধী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) উভয়ই দাবি করেছে, খার্তুমের বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে, যেখানে রাতভর লড়াই চলেছে।
রোববার ভোরে খার্তুম সংলগ্ন ওমদুরমান এবং নিকটবর্তী বাহরিতে ভারী কামানের শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা পোর্ট সুদানের লোহিত সাগরের শহরটিতে গোলাগুলির কথাও জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের জে আরএসএফ ঘাঁটিতে আঘাত করছে। দেশটির বিমান বাহিনী শনিবার রাতে মানুষকে তাদের বাড়িতে থাকতে বলেছে।
দেশের আশেপাশের শহর ও অঞ্চলে কমপক্ষে ৫৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে সুদানের চিকিৎসকদের একটি কমিটি জানিয়েছে। কয়েক ডজন সামরিক কর্মী মারা গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৫৯৫ জন আহত হয়েছে বলেও তারা জানায়।
দেশের পশ্চিমে কাবকাবিয়াতে একটি সামরিক ঘাঁটিতে আরএসএফ এবং সশস্ত্র বাহিনীর গুলি বিনিময়ের পর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তিনজন কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভারতে সাবেক সংসদ সদস্যকে লাইভ টিভিতে গুলি করে হত্যা
২০২১ সালের অক্টোবরে একটি অভ্যুত্থানের পর থেকে সুদান পরিচালনা করছেন সামরিক জেনারেলরা। যুদ্ধটি ডি ফ্যাক্টো নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত সেনা ইউনিট এবং সুদানের ডেপুটি লিডার মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বে হেমেদতি নামে পরিচিত আরএসএফ-এর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
জেনারেল দাগালো বলেছেন, সমস্ত সেনা ঘাঁটি দখল না করা পর্যন্ত তার সৈন্যরা লড়াই চালিয়ে যাবে।
প্রতিক্রিয়ায় সুদানের সশস্ত্র বাহিনী ‘আধাসামরিক আরএসএফ বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত’ আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
একাত্তর/এসজে
