পুলিশের গুলিতে কিশোর হত্যায় ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৬৬৭ জন বিক্ষোভকারীকে।
দেশজুড়ে প্রায় ৪০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের পরেও প্যারিসের অনেক দোকানে ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। খবর: রয়টার্স।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভে আহত হয়েছেন ২৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করলে তা ‘বিশাল ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিনেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রজার কারৌচি।
প্যারিসে মঙ্গলবার পুলিশ ১৭ বছর বছরের নাহেল এম’কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে দাঁড়াতে বলে। কিন্তু পুলিশের কথা অমান্য করে গাড়ি চালানো অব্যাহত রাখে নাহেল। এ কারণে তার ওপর গুলি চালিয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
আহত তরুণ কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে মারা যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় দেশজুড়ে সহিংস দাঙ্গা।
দাঙ্গা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত প্যারিসের পার্শ্ববর্তী ক্লামার্ত শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্যারিস অঞ্চলে রাত নয়টা থেকে বাস ও ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, নাহেল হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফরাসি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে কিশোর নাহেলের মায়ের নেতৃত্বে একটি মিছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় রাতে লিলি ও মার্সেইতে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: ওবামার বাড়ির সামনে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ যুবক গ্রেপ্তার
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কিছু জায়গায় আবর্জনার স্তূপে আগুন জ্বলছে। কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল নান্টেরে শহরে একটি ভবনের নিচতলায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
একাত্তর/জো