ভ্যাপসা গরম ও দাবদাহে কমছে উৎপাদনশীলতা

ভ্যাপসা গরমের প্রভাবে উৎপাদনশীলতা কমছে। গরমে উন্মুক্ত পরিবেশে কাজ করা শ্রমিকদের জীবিকাই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। ফলে বিপর্যয় নেমে আসছে এ ধরনের শ্রমবাজারে। 

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও বলছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে বিভিন্ন দেশের কর্মক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ২০৩০ সাল নাগাদ দুই হাজার ৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে সারাবিশ্ব। প্রাণ হারাচ্ছে শত শত মানুষ। পুড়ছে বনাঞ্চল। মরছে হাজার হাজার পশুপাখি। 

আর্দ্রতাপূর্ণ গরম আবহাওয়া সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষম মানুষের স্বাস্থ্যের সাথে তার জীবিকার সংযোগ আছে তাই এটি অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। 

সম্প্রতি, ইনস্টিটিউশন অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স আইএমই এর প্রতিবেদনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে শ্রমিকরা কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 

যেখানে দেখা গিয়েছে, উষ্ণ কাজের পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যারা বাইরে কাজ করে। বিশেষ করে মাটি ও খনি খননের পাশাপাশি নির্মাণ কাজে জড়িত শ্রমিকরা। 

যে কোনো কর্মক্ষেত্রে তাপমাত্রা সহনীয় থাকা খুবই জরুরি বলছেন বিশ্লেষকেরা। তাপমাত্রা ঠিক না থাকলে মনোবল, উৎপাদনশীলতা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা সব কিছুতেই অবনতি ঘটে। 

প্রতিবেদনে বলা হয় কর্ম পরিবেশ উষ্ণতর হলে খুবই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হয়। অতিরিক্ত উত্তাপ শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা কমে, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে, বলছে আইএমই। 

এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, নির্মাণ ও কৃষি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাই তাপদাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০৩০ সালে নাগাদ অতিরিক্ত তাপের চাপে কর্মঘণ্টা কমবে যথাক্রমে ৬০ এবং ১৯ শতাংশ। 

আরও পড়ুন: জনআস্থার পর গ্রিক প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু

সংস্থাটি বলছে, সে বছর কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ বিলিয়ন ডলার। যেখানে ১৯৯৫ সালে এই ক্ষতির ছিলো মাত্র ২৮০ বিলিয়ন ডলারের।

আইএলও আরও বলছে, বৈশ্বিক উচ্চ তাপদাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন-মধ্য- এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলো। 


একাত্তর/এসজে