জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর আবহাওয়ায় চরিত্রে বড় ধরনের প্রভাব গেলো কয়েক বছর ধরেই প্রকট হয়ে উঠেছে। গরমের সময় অতীতের সব তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে, আবার শীতের সময়ও পারদ নেমে যাচ্ছে এতোটাই নিচে, যা আগে ভেঙ্গে দিচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড। এবারের শীতে ভালো নেই এশিয়া ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষেরা। কোথাও কোথাও পারদ নেমেছে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ভয়ংকর শীতে কাঁপছে গোটা আমেরিকা। ঠাণ্ডা আর তুষারঝড়ে জমে যাচ্ছে দেশটির মানুষ। বিভিন্ন রাজ্যে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর হিম ধরানো ঝড়ে মারা গেছেন অন্তত ৯০ জন। শুধু টেনেসিতেই মারা গেছেন ২৫ জন। ওরিগানোতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। গেল সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র ঠাণ্ডা চলবে এ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত।

পাশাপাশি ইলিনয়, পেনসিলভানিয়া, মিসিসিপি, ওয়াশিংটন, কেনটাকি, উইসকনসিন, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সিসহ আরও কয়েক জায়গায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিকূল এই আবহাওয়ায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হাজার হাজার মানুষ। বন্ধ স্কুল, ব্যাহত হচ্ছে জীবনযাত্রা। বাতিল করা হয়েছে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট। বিলম্বিত হয়েছে আট হাজারের বেশি।
কোথাও কোথায় পারদ নেমেছে হিমাঙ্কের প্রায় ৬০ ডিগ্রি নীচে। ঘন বরফের আস্তরণে ছেয়ে গেছে সড়ক। ঘটছে দুর্ঘটনা। বুধবার তুষারঝড়ে পোর্টল্যান্ডের একটি পার্ক করা গাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন তিনজন। পরে এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেনটাকিতে বৈরী আবহাওয়ায় মারা গেছেন ৫ জন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া বেশ শীতল। তুষারপাতের পাশাপাশি চলছে ভারী বর্ষণ। দেশের দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে হিমশীতল তাপমাত্রার পূর্বাভাস ছিল আগেই। ইতিমধ্যে চলতি সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড় ও তুষারপাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।

ভয়াবহ শীতে বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক দপ্তরগুলো উষ্ণ রাখতে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।
মেরু অঞ্চল থেকে আসা হিমশীতল ঘূর্ণি বাতাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এমন তীব্র শীত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর দেখা যায়নি। বাতাস এতই ঠাণ্ডা যে, জোরে নিশ্বাস নিতেও নিষেধ করা হচ্ছে। এমনকি বাইরে না বের হতেও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ভয়াবহ ঠাণ্ডা আর বরফাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে তীব্র শীতে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়াতেও বেশ ক’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সুইডেনের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা নেমে হয়েছে মাইনাস ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর স্কটল্যান্ডে তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে মাইনাস ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ব্রিটেনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই শীতের সবচেয়ে শীতল রাত গেছে চলতি মাসে।
অপরদিকে, কানাডার টরন্টোতে বর্তমানে তাপমাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শুধু ইউরোপ-আমেরিকা নয়, শীতে কাঁপছে এশিয়ার বড় দেশ চীনও। পাশাপাশি বাংলাদেশেও চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল হাওয়া, কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশকিছু অঞ্চলে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল। মানুষের জীবন ও জীবিকায় পড়েছে বিরূপ প্রভাব। এমন পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
লোহিত সাগরে নিরাপদ রুশ ও চীনা জাহাজ