তীব্র গরমের সাথে যারা সবচেয়ে দক্ষতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, তারাই এই সংক্রান্ত মৃত্যুহার কমাতে পারবে সবচেয়ে সফলভাবে। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।
গবেষণা বলছে, গত গ্রীষ্মে তীব্র গরমে ইউরোপে মারা গেছে ৬১ হাজার মানুষ। আর এমন গরম মোকাবেলায় তেমন তোড়জোড় নেই কারোরই।
ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের মে মাসের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ইউরোপের ৩৫ দেশে গরমে মারা গেছে বিপুল মানুষ। রেকর্ড গড়েছে বিভিন্ন দেশের তাপমাত্রা।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার মেডিসিন জার্নালে। সেখানে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা এবং মৃত্যু দেখেছে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো। এদের মধ্যে আছে গ্রিস, ইতালি, পর্তুগাল ও স্পেন।
বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ এর গবেষক অধ্যাপক জোয়ান ব্যালেস্টার বলেছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি মহাদেশের বাকি অংশের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল।
ব্যালেস্টা বলেন, গরমে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ইতালি, গ্রিস এরপর স্পেন ও পর্তুগাল। এদের ভাগ করা হয়েছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। অন্যদের তুলনায় অবস্থা খারাপ।
তারপরও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে পারলে এসব মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব বলে জানান গবেষকরা। গরম আসার আগেই এই বিষয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা নেয়া থাকলে মৃত্যু হার কমানো সম্ভব।
আর তা করে দেখিয়েছে ফ্রান্স। মাত্র তিন বছরে তারা মৃত্যুহার কমিয়েছে ১০ গুণ। গরমে মৃত্যু কমাতে কী কী করা যেতে পারে, তারও একটা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন গবেষক ব্যালেস্টার।
অনেক সস্তা ধরণের ব্যবস্থাই আছে। যেমন, আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তালিকা করে তাদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। এটা কম খরচে সম্ভব।
ব্যালেস্টার জানান, গত গ্রীষ্মে ইউরোপে অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি গরমের সম্পর্ক আছে এমন মৃত্যুর হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। তাই, দেরি না করে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।
একাত্তর/আরবিএস
