কম্বোডিয়ার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পিপলস পার্টি (সিপিপি) বিজয়লাভ করার ঘোষণা দেয়ার পর ‘একতরফা’ নির্বাচনের অভিযোগে দেশটিতে কিছু বিদেশি সহায়তা কর্মসূচি স্থগিত ও কয়েকজন ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘বিচলিত’ যে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সিপিপি কোনো কার্যকর প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়নি এবং সেটি ‘অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না।’
মিলার বলেন, ‘নির্বাচনের আগে, কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক বিরোধী, মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে হুমকি এবং হয়রানির একটি প্যাটার্নে জড়িত ছিল, যা দেশের সংবিধানের চেতনা এবং কম্বোডিয়ার আন্তর্জাতিক কর্তব্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে।’
‘এর প্রতিক্রিয়ায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন ব্যক্তিদের উপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করার পদক্ষেপ নিয়েছে যারা গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ণ করেছে, এবং কিছু বিদেশি সহায়তা কর্মসূচির বিরতি বাস্তবায়ন করেছে।’
মিলার কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার, রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বিচারের অবসান ও সরকারী সমালোচকদের মুক্তি দেয়ার এবং ‘দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানের উন্নতি’ করার জন্য স্বাধীন মিডিয়াকে হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করতে অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩৮ বছর ধরে কম্বোডিয়া শাসন করা হুন সেন নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে পশ্চিমা উদ্বেগকে পাত্তা না দিয়ে তার বড় ছেলে হুন মানেতকে ক্ষমতায় অভিষিক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
রোববারের বহুল বিতর্কিত কম্বোডিয়ার এই নির্বাচনে ৮১ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে দেশটির নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিটির মতে, রোববারের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৮৪ শতাংশ।
আরও পড়ুন: মাতাল হয়ে গাড়ী চালিয়ে গ্রেপ্তারের পর কিউই মন্ত্রীর পদত্যাগ
হুন সেন বলেছেন, গত তিন দশকের মধ্যে এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে বিদেশিদের ভোট নস্যাৎ করে দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদ ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সিপিপির সঙ্গে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে আরও ১৭টি রাজনৈতিক দল। যদিও এই ১৭টি দলের বেশিরভাগই নাম-সর্বস্ব। তাদের কোনও দলই এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে একটি আসনেও জয় পায়নি।
একাত্তর/এসজে