খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়, গেলো ৩০ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ শহরে একটি ভবনে আগুন লেগে কমপক্ষে ৭৬ জনের মারা যাওয়ার ঘটনাটি এখনো অনেকের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়নি। আগুনের সেই ভয়াবহ ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরও ৫০ জনের মতো মানুষ।
সেই আগুনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা জানতে পারলেন এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। এক ব্যক্তি ইচ্ছে করেই নিজের অপরাধ ঢাকতে সেই ভবনটিতে আগুন দিয়েছিলেন। তার হাতে খুন হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ ভস্ম করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি সেই ভবনে আগুন দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার আগুনের ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর দক্ষিণ আফ্রিকার তদন্ত কর্মকর্তারা এসব কথা জানান। তারা আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭৬টি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই ব্যক্তি এক ব্যক্তির নির্দেশ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর দেহ পুড়িয়ে দিতে আগুন দেন।
গেলো আগস্টে জোহানেসবার্গে রাতের আগুনের কারণ নিয়ে গণতদন্তে তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিটি এমন মর্মান্তিক স্বীকারোক্তি দেন। আটক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে বয়স ২৯ বলে উল্লেখ করেছে। তিনি নিজ থেকেই ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়েছে তদন্ত কমিটির কাছে।
তিনি জানান, জোহানেসবার্গ শহরের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকার ওই ভবনে আগুনের রাতে তিনি বেসমেন্টে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন। তিনি বলেন, এরপর তিনি ওই ব্যক্তির শরীরে পেট্রোল ঢেলে একটি ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। সেই আগুন ছড়িয়ে পরে পুরো ভবনে।
তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ভবনটি বসবাস করা তানজানিয়ার এক মাদক ব্যবসায়ী তাকে এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে বলেছিলেন। তিনি যে তদন্তে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন, তা কোন ফৌজদারি প্রক্রিয়া নয় এবং তার স্বীকারোক্তিটি সম্পূর্ণ আশ্চর্যজনক ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ভবনে আগুনের কারণ কী এবং কী নিরাপত্তা ব্যর্থতার ফলে এতো লোক মারা গেছে তা নিয়ে এক গণতদন্তের আয়োজন করে শহর কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিটি ওই ভবনের বাসিন্দা হিসাবে সাক্ষ্য দিতে আসেন। সাক্ষ্য দেয়ার পরপরই দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টা এবং আগুন দেয়ার অভিযোগ প্রায় ১২০টি মামলার মুখোমুখি করা হয়েছে। তাকে শিগগিরই জোহানেসবার্গে আদালতে হাজির করা হবে। পুরো ঘটনার তদন্ত করার পরেই আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সেই আগুনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়। পাঁচতলা ওই ভবনটি শহরের একটি বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। তবে, সেখানে অবৈধ ব্যবস্থাপনায় লোকজন বসবাস করতো। অর্থাৎ বসবাসের জন্য ভবনটি উপযোগী না থাকলেও লোকজন নিজেদের মতো করে সেখানে বাস করতো।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ভবনটিতে যারা বসবাস করতো তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলো অভিবাসী লোকজন। ভবনটি শহরের যে এলাকায় সে জায়গাটি ‘হাইজ্যাকড’ বিল্ডিং এর এলাকা হিসেবে পরিচিত। যেসব ভবনে অবৈধ অভিবাসীরা বসবাস করে সেসব ভবনকে বোঝানোর জন্য স্থানীয়ভাবে 'হাইজ্যাকড বিল্ডিং' কথা ব্যবহার করা হয়। এসব ভবনকে নিরাপদ মনে করতো মাদক কারবারি ও অপরাধীরাও।