লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠ থেকে হল্যান্ডের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আটক করেছে লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। গেলো বুধবার ওই ডাচ গোষ্ঠীটির সদস্যদের আটক করা হয়। ছয় সদস্যবিশিষ্ট ওই গোষ্ঠীর কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বৈরুতভিত্তিক পত্রিকা আল-আখবারের বরাতে রোববার পার্সটুডে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা ডাচ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। লেবানন থেকে ডাচ নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজে সহযোগিতা করার অজুহাতে তারা বৈরুতে এসেছে বলে দাবি করেছে।
তবে লেবাননের সাংবাদিক হাসান ইল্লায়িক বলছেন, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি লেবানন থেকে ডাচ নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজে বৈরুতস্থ হল্যান্ডের দূতাবাসকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি।
তিনি আরও বলেন, তারা দূতাবাসে না গিয়ে বৈরুতের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কাসলিক থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল।
এদিকে আটকের পরপরই তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে বৈরুতে নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছুটে যান। ডাচ রাষ্ট্রদূতের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কোনো অপরাধ করেনি।
এ বিষয়ে ইল্লায়িক বলেন, অথচ ডাচ সশস্ত্র গোষ্ঠীটি লেবাননের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছিল।
হিজবুল্লাহর নেতা ও কমান্ডারদের হত্যা করার লক্ষ্যে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, বিশেষ করে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বলে যখন গুঞ্জন উঠেছে, ঠিক সেই সময় ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের আটক করা হলো।
সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হন। এর আগে ডিসেম্বর মাসে বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরাইলের ড্রোন হামলায় নিহত হন হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা সালেহ আল-আরুরি।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৩১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এর জবাবে ইসরাইলে হামলা চালিয়ে আসছে শিয়াপন্থি হিজবুল্লাহ।
লেবাননের প্রতিরোধকামী সংগঠনটি বলেছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা থামাবে না।