লোহিত সাগরে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গেলো সাত মাস ধরে ইয়েমেনের নৌবাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার আক্রমণে পালানোর পথ খুঁজে পাচ্ছে না মার্কিনীরা।
মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর দিয়েছে।
মার্কিন সাবমেরিন বাহিনীর সাবেক সদস্য এবং হাডসন ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রথম এত কঠিন যুদ্ধের মুখে পড়েছে।
মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা আক্রমণ মোকাবেলা করতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এভাবে হামলা অব্যাহত থাকলে কিছুদিন পর হুতিরা আরও বেশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেলো সাত মাসে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী প্রায় অর্ধশত ইসরাইলি ও পশ্চিমা বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে আক্রমণ চালিয়েছে হুতিরা। এতে ইসরাইল ও তার মিত্রদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বাণিজ্য।
লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস লাবুনের কমান্ডার এরিক ব্লুম্বার্গ বলেন, আমরা কতটা প্রাণঘাতী যুদ্ধ করছি এবং মার্কিন জাহাজগুলো কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা অনেকেই বুঝতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, হুথি বিদ্রোহীরা হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং আমরা দেখছি দিনকে দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে। গাজাজুড়ে দেখা দিয়েছে খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানি সংকট।
ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইসরাইল অভিমুখী যেকোনো দেশের জাহাজকে টার্গেট করার ঘোষণা দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য। কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি ইয়েমেনিদের, বরং দিন দিন আক্রমণ আরও তীব্র হচ্ছে।
সবশেষ চলতি সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।