আসাম এবং বিহারের পর এবার ভারী বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহর। এর ফলে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। ভোগান্তি এড়াতে অনেক এলাকার স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাই এবং এর আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সোমবার রাত ১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে মুম্বাইয়ের অনেক ট্রেন বাতিল এবং কিছু ট্রেন নতুন করে শিডিউল করা হচ্ছে।
বেশ কয়েকটি রেলস্টেশনে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে ওয়ার্লি, বুনতারা ভবন, মুম্বাইয়ের কিংস সার্কেল এলাকা, দাদর এবং বিদ্যাবিহার রেলস্টেশনে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। থানে জেলার কাসারা এবং টিটওয়ালা স্টেশনগুলির মধ্যে ট্রেন সেবা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এরিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে ৫০টি ফ্লাইট। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অনুরোধ করেছে যেন বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ফ্লাইটের খবর নিয়ে বের হয়।
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় উড়ান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। রাত দুটো ২২ থেকে ভোর তিনটা ৪০ পর্যন্ত রানওয়ে অপারেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ২৭টি বিমান বাতিল হয়েছে এই কারণেই। সব মিলিয়ে সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫১ বিমান বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মুম্বাই শহর জুড়ে হাঁটু পানি, কোথাও কোথাও কোমর পানি ভেঙে হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। রাস্তায় জলাবদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শহরজুড়ে থমকে গেছে ট্রাফিক ব্যবস্থা। এরই মধ্যে শহরের সব সরকারি, বেসরকারি ও মিউনিসিপ্যাল স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ মুম্বাই, থানে, পালঘর এবং কোঙ্কন বেল্টের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ সতর্কতা জারি করেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বজ্রপাতের আভাস দিয়েছে। প্রশাসন বলছে, টানা বৃষ্টি বন্ধ না হলে জলজট পরিস্কার করার কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তারা।
সোমবার দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে মুম্বইয়ে দুর্ভোগের ছবি বদলের সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি এতো খারাপ যে, মহারাষ্ট্রের পালঘর, রায়গড়, রত্নাগিরি, কোলহাপুর, সাংলি, সাতারা ঘাটকোপার, কুর্লা এবং সিন্ধুদূর্গে নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এসব জায়গায় পানির নিচে চলে গেছে ঘরবাড়ি।