রুশ সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউক্রেন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। একইসাথে পুতিন প্রশাসন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ওই স্থাপনায় কোনো হামলা হলে রাশিয়া তার ‘কঠোর জবাব’ দেবে।
ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইনডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানোর বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও, একদিন আগে অর্থাৎ শুক্রবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খারিজ করে দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন কুরস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করার পাশাপাশি এ ধরনের একটি ‘উস্কানি’র দায় মস্কোর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ইউক্রেন ওই স্থাপনায় হামলা চালালে রাশিয়া তার ‘কঠোর জবাব’ দেবে। কিয়েভকে এরজন্য কঠোর প্রতিশোধমূলক সামরিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিওরহি টাইখ্যি বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই মিথ্যা প্রতিবেদনগুলোকে খণ্ডন করি। ইউক্রেনের এই ধরনের কোনো কাজ করার ইচ্ছা বা ক্ষমতা নেই। রাশিয়াকে অবশ্যই বিপজ্জনক মিথ্যা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক এক্স বার্তায় বলেছেন, কুরস্ক অঞ্চলে তার সেনাবাহিনী নিজের অবস্থান সংহত করছে।
এর আগে কুরস্ক পারমাণবিক স্থাপনাকে যেকোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণের আহবান জানান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
ওই অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছেন আইএইএ মহাপরিচালক।
রাশিয়ায় যে তিনটি বৃহৎ পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর মধ্যে কুরস্ক অন্যতম। এটিতে মোট ছয়টি চুল্লি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দু’টি চুল্লি বন্ধ রয়েছে, দু’টি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অবশিষ্ট দু’টি পূর্ণ মাত্রায় জ্বালানি উৎপাদন করছে।
গেলো সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার প্রায় ৩০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত কুরস্ক অঞ্চল দখল করে নেয় কিয়েভ সেনারা। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়ায় বড় ধরনের সাফল্য পেলো কিয়েভ।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর এ পর্যন্ত টানা ৯০৫ দিনের মতো চলছে এই যুদ্ধ। এতে দুই পক্ষের বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে বেড়েছে সংঘাত।