ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের ‘দুষ্ট’ হিসাবে খ্যাত ইসরাইল। হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল করা তো দূরের, তাদের টিকিও ছুঁতে পারেনি ইসরাইল। উল্টো নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। গোটা গাজাকে পরিণত করেছে ধ্বংসস্তূপে। সেখানে বিরাজ করতে মানবেতর পরিস্থিতি।
গাজা উপত্যকাকে ধ্বংস করার পর এবার ইসরাইলের খুনে চোখ পড়েছে লেবাননের উপর। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের নিধন করতে চাইছেন মধ্যপ্রাচ্যের ‘কসাই’ হিসেবে পরিচিত ইসরাইলের কর্তা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হিজবুল্লাহকে দমনের নামে এবার লেবাননকে ধ্বংস করতে চান তিনি।
সেই লক্ষ্য গত কয়েকদিন ধরে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে রণসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছে ইসরাইল। সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ছেড়ে দিচ্ছে না হিজবুল্লাহ। শতশত রকেট ছুঁড়ে পাল্টা দিচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
লেবাননজুড়ে পেজার ও ওয়াকিটকি রেডিওসহ বিভিন্ন যোগাযোগ যন্ত্রে বিস্ফোরণের ন্যাক্কারজন ঘটনার মধ্য দিয়ে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। এই ডিভাইসে বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানোর পর বড় আকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এবার স্থল হামলা শুরুর আভাস দিয়েছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার, এমন তথ্যই দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এপি ও এএফপি। বুধবার, ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি বলেন, যে কোনো সময় ইসরাইলের সেনাবাহিনী স্থলপথে লেবাননে প্রবেশ করতে পারে।
ইসরাইলি সেনাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে ইসরাইল লেবাননজুড়ে একের পর এক মিসাইল আক্রমণ চালিয়েছে। হিজবুল্লাহকে প্রতিরোধ করতে আরো মিসাইল আক্রমণ চালানো হবে। তবে পাশাপাশি এই আক্রমণের মাধ্যমে ইসরাইল লেবাননে প্রবেশ করার রাস্তাও তৈরি করে রাখছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি আরও বলেন, কোনো সময় ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্থলপথে লেবাননে প্রবেশ করতে পারে। হিজবুল্লাহকে মোকাবিলা করা তাদের এক এবং একমাত্র লক্ষ্য। তেলআবিব লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ মিসাইল হামলা চালানোর পর ইসরাইল আর বসে থাকতে পারেন না।
তিনি জানান, হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে লেবাননে স্থল অভিযান চালনো প্রয়োজন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। সেনাদেরকে লেবাননে সম্ভাব্য স্থল হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশও দেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল হারজি হালেভি।
সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত একটি বিবৃতি অনুযায়ী হারজি হালাভি ট্যাংক ব্রিগেডকে বলেন, আপনারা এখানে বিমানের শব্দ শুনতে পারছেন; আমরা সারাদিনই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছি, আপনাদের প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরির জন্য যেমন, তেমনি হিজবুল্লাহর উপর আঘাত হানা অব্যাহত রাখার জন্য।
তিনি বলেন, লেন, আমরা থামছি না । আমরা তাদের উপর আক্রমণ চালানো এবং সর্বত্র তাদের ক্ষতি সাধন অব্যাহত রাখবো। আর সে জন্য আমরা অনুশীলন করে যাচ্ছি এবং বিষয়টা হচ্ছে আপনাদের সামরিক বুট জুতা, আপনাদের এই অনুশীলনের বুট জুতা শত্রুর অঞ্চলে প্রবেশ করবে।
হালেভি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে হিজবুল্লাহ তাদের রকেট ও মিসাইল হামলার পরিধি বাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবেই সেটির কড়া জবাব দেয়া হবে। আপনারা তৈরি থাকুন। হিজবুল্লাহকে শেষ করতে লেবাননে ঢোকা প্রয়োজন। ইসরাইলের সেনাবাহিনী তার জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন ইসরাইলি সেনাপ্রধান।
এদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি আঘাতে বুধবার ৫০ জন নিহত হয়েছে । এর ফলে তিন দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৫। এবং আহত হয়েছে দু'হাজারে বেশি মানুষ।
ইসরাইলি সতর্ক বার্তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনে কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো সময় আছে উত্তেজনা কমিয়ে আনার এবং কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার। বুধবার এবিসির টক শো ‘দ্য ভিউ’ তে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমি যা ভাবছি তা হলো, নিষ্পত্তি করার সুযোগ এখনও রয়েছে।