নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের শুরুতে হোয়াইট হাউজের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই কূটনৈতিক উপায়ে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, কিয়েভকে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে পরের বছর যুদ্ধের অবসানের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। আমাদের যা করতে হবে তা হলো, এই যুদ্ধ যেন আগামী বছর শেষ হয় তা নিশ্চিত করা।
শনিবার এক রেডিও সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। খবর তেহরানভিত্তিক প্রেসটিভির।
জেলেনস্কি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক রাস্তায় এই যুদ্ধ শেষ করতে হবে। আমি মনে করি, এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ "শিগগিরই শেষ" হবে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পরই।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি ট্রাম্পের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং তাদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ক্রেমলিন থেকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, যে কোনো শান্তি চুক্তিতে রাশিয়ার আঞ্চলিক লাভ এবং নিরাপত্তার দাবিগুলোকে সবার স্বীকার করা উচিত। যার মধ্যে রয়েছে, কিয়েভের ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা।
গেলো জুন মাসে পুতিন ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টা প্রত্যাহার করে নেয়াসহ তার শান্তি আলোচনার শর্তাবলি তুলে ধরেন।
এ প্রসঙ্গে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের দখল করে নেয়া চারটি অঞ্চল এবং ক্রিমিয়ার উপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে হবে কিয়েভকে।
তিনি আরও যোগ করেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সীমান্তের এলাকাবাসীদের নির্ধারণ করে নেয়া একটি সীমারেখা ধরে চলতে হবে।
যদিও মস্কোর এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেনের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং রুশ সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে কিয়েভ।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কিয়েভকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় আসলে "একদিনের মধ্যে" ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ হবে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। মূলত ন্যাটো সামরিক জোটকে আটকাতে এই অভিযান চালায় পুতিন প্রশাসন। অভিযান শুরুর ছয় মাসের মাথায় ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের দখল নিতে সক্ষম হয় রুশ বাহিনী।
এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন।