গোটা ফ্রান্সকে হতবাক করে দেয়া গণধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে শুনানি শেষে দুই পক্ষের চূড়ান্ত বক্তব্য গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিনটি ঠিক করেছে দেশটির আদালত। পরের দিন বুধবার আদালত রায় দেবে।
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের এক বাসিন্দা, তার স্ত্রীকে নেশা দ্রব্য খাইয়ে ডজন খানেক ভাড়াটে লোক নিয়ে এসে ধর্ষণ করাতেন। পরে ধর্ষণের ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় তার বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং গণর্ধষণের অভিযোগ ওঠে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই অভিযোগে একটি মামলা করা হয়।
জানা গেছে, ৭২ বছর বয়সী স্ত্রীকে অন্যদের দিয়ে ধর্ষণ করাতেন স্বামী। স্ত্রীকে মাদকাসক্ত করে বাইর থেকে অজানা লোক এনে তার ওপর অমানবিক অত্যাচার চালাতেন ওই স্বামী। পুলিশ জানিয়েছে, ৭০ জনেরও বেশি সংখ্যক পুরুষ ওই নারীকে ৯২ বার ধর্ষণ করেছে, আপাতত ৫১ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় আভিগনো শহরে। জানা গেছে, ওই ব্যক্তির নাম ডমিনিক পেলিকোট। ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানির প্রাক্তন কর্মচারী তিনি। বয়স ৭১ বছর। বছরের পর বছর ধরে, স্ত্রীর অজান্তে নেশার ওষুধ মাদকাসক্ত করে অন্য পুরুষদের হাতে তুলে দিতেন ডমিনিক।

স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর জন্য অনলাইনেই লোক খুঁজতেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে যে, ৭২ জন পুরুষ ৯২ বার ধর্ষণ করেছেন ওই নারীকে। অভিযুক্তদের বয়স ২৬ থেকে ৭৪ বছর বয়সের মধ্যে। ইতিমধ্যেই, ৭২ জন ধর্ষকদের মধ্যে ৫১ জনকে খুঁজে বের করা হয়েছে। তাঁদের চিহ্নিত করেছেন নির্যাতিতা নিজেই।
এতবার ধর্ষণের শিকার হলেও এই নারী কিছুই জানতে পারেননি। তাকে এতটাই মাদকাসক্ত করে রাখা হত যে, দশ বছর ধরে তার সঙ্গে কী ঘটছে তা তিনি একেবারেই জানেন না। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, একটি শপিং মলে ঢুকে গোপনে নারীদের স্কার্টের নীচের ভিডিও করার সময় ডোমিনিককে ধরে ফেলে পুলিশ।
পরে ডোমিনিকের কম্পিউটারে তার স্ত্রীর শত শত ছবি এবং ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। তা থেকেই সামনে এসে অভিযুক্তের নৃশংস কীর্তিকলাপ। এরপরেই সন্তানদের হাত ধরে, নিজের সঙ্গে হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন ওই নারী। যার বিচার এখন শেষের পথে।
৭১ বছর বয়সি ডোমিনিক পেলিকো আদালতে বলেন, আমি এই ঘটনার পুরো দায় স্বীকার করে নিচ্ছি। এই ঘরে উপস্থিত বাকি সবার মতো আমিও একজন ধর্ষক। যদিও আমার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। সেই সময় আদালত কক্ষে ধর্ষণের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া আরো ৫০ জনের মতো অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলো।

আদালতে পেলিকো দাবি করেন, শৈশবে তিনি নিজেও ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এবং সেই দুঃস্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে। আদালতে উপস্থিত অন্য অভিযুক্তদের কয়েকজন ওই নারীর বিরুদ্ধেই উল্টো অভিযোগ করে বলেন, পেলিকোর স্ত্রী ঘুমের অভিনয় করতেন। তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তার সম্মতি ছিল।
ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা ভুক্তভোগীর গিসেল পেলিকো তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বামী ও অন্যান্য অভিযুক্তের জনসমক্ষে বিচারের দাবি জানান। আদালতে বিচার চলাকালীন গিসেল বলেন, মিস্টার পেলিকো নিজের মুখে এ মুহূর্তে যা বলেছেন, তা আমার পক্ষে শোনাও বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
গিসেল আদালতে আরও বলেন, দেশের সব নাগরিকের এই ভয়াবহতা সম্পর্কে জানা উচিত। তাই জনসমক্ষে শুনানি করার জন্য অনুরোধ করে তিনি। এরপর তার আইনজীবী স্টিফেন ব্যাবোনিউর সবটা শুনে বিচারক রজার আরাতা জনসাধারণের সামনেই এই বিচারের শুনানি করার সিদ্ধান্ত নেন।

ডোমিনিকের অতীত রেকর্ড বেশ খারাপ। ১৯৯১ সালে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। যদিও তা তিনি অস্বীকার করেছিলেন। এরপর ১৯৯৯ সালে ধর্ষণের চেষ্টা করার জন্যও আইনি বিপাকে পড়েন ডমিনিক। তার দাবি, মাত্র ৯ বছর বয়সে একজন পুরুষ নার্স ধর্ষণ করেছিল ডমিনিককে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোমিনিক মানসিকভাবে অসুস্থ নন। তিনি নারীদের উপর বিরাট প্রভাব ফেলতে চান। সর্বশক্তিমান হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্যই, নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও অমানবিক কাজটি করতে পিছপা হননি। এবার সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০ ডিসেম্বর ডোমিনিকের নৃশংস কাজের শাস্তি জানা যাবে।
সুপার টাইফুন ম্যান-ই’র আঘাতে বিপর্যস্ত ফিলিপাইন