আবারও থাই কম্বোডিয়া সীমান্তে উত্তেজনা, সংঘাতে দুই পক্ষের বহু আহত 

মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে ফের সংঘাত শুরু হয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই বৈরী প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে। সংঘাতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘাত হয়েছে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী একটি বিবাদপূর্ণ অঞ্চলে।

ব্যাংককের দাবি, এ অঞ্চলটি দেশটির সা কায়েও প্রদেশের বান নং ইয়া কায়েও গ্রামের অংশ। অন্যদিকে নমপেনের দাবি, অঞ্চলটি কম্বোডিয়ার বানথায়ে মিনচে প্রদেশের প্রিয়ে চ্যান গ্রামের অন্তর্গত। 

এক বিবৃতিতে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সকালে কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০ মানুষ লাঠি ও পাথর দিয়ে সীমান্ত রক্ষীদের আক্রমণ করে। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস, লাঠি, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ। 

এ ঘটনাকে জুলাই মাসে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সবচেয়ে বড় সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। থাই সেনা জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তাদের কয়েকজন কর্মকর্তাও আহত হয়েছেন।

এদিকে কম্বোডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, থাইল্যান্ডের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমানা পেরিয়ে কম্বোডিয়ায় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে গ্রামের মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। 

এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল নামের একটি ভূখণ্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে। থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া উভয়েই জায়গাটিকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে।

এবারের সংঘর্ষটি ঘটে সা কেও প্রদেশের বান নং ইয়াকাউ গ্রামে, যা থাইদাবি অনুযায়ী তাদের ভূখণ্ড, কিন্তু কম্বোডিয়া বলছে সেটি তাদের বান্তেই মেনচেই প্রদেশের প্রেই চ্যান গ্রামের অংশ। থাই কর্তৃপক্ষ গত মাসে ওই এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেয়, এরপর থেকেই সীমান্তের দুই পাশের মানুষজন বিক্ষোভ করে আসছিলেন।

কম্বোডিয়ার তথ্যমন্ত্রী নেথ ফিয়াকত্রা অভিযোগ করেছেন, থাই বাহিনী সীমান্ত লঙ্ঘন করে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড বোমা ব্যবহার করেছে সাধারণ কম্বোডীয় মানুষের ওপর।

প্রধানমন্ত্রী হুন মেনেত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আসিয়ানকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে থাইল্যান্ডের 'একতরফা পদক্ষেপ' বন্ধে সহযোগিতা চেয়েছেন।

থাই সেনা বলেছে, প্রায় ২০০ কম্বোডীয় বিক্ষোভকারী তাদের প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেঙে ফেলে ও স্লিংশট দিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন থাই কর্মকর্তার আহত হওয়ায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ব্যবহার করে।