ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও আলোচনার মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার প্রতি সদিচ্ছা প্রকাশ করতে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ট্রাম্প বিষয়টিকে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ‘উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই দিন আগে তিনি যে ‘রহস্যময় এক উপহারের’ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা ছিল মূলত এই তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচল সম্পর্কিত। প্রায় এক মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত অচল করে দিয়েছিল।
সংঘাত শুরুর পর প্রথম এই মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান প্রথমে আটটি তেলবাহী জাহাজ পার হতে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে তারা আরও দুটি জাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়। ট্রাম্পের ভাষায়, তারা (ইরান) বলেছে—আমরা যে শক্তিশালী এবং আমাদের যে অস্তিত্ব আছে, তা প্রমাণ করতেই এই জাহাজগুলো যেতে দেব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই জাহাজগুলো পাকিস্তানের পতাকাবাহী বলে তাঁর ধারণা। তিনি খবরটি সংবাদমাধ্যমেও দেখেছেন। ট্রাম্প বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমরা সঠিক পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করছি। এরপর তারা আগের একটি মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং জানায় যে আরও দুটি জাহাজ যেতে দেবে।
তথ্যটি প্রকাশের আগে ট্রাম্প তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ আলোচক স্টিভ উইটকফের দিকে তাকিয়ে অনুমতি চেয়ে বলেন, স্টিভ, আমি কি উপহারের বিষয়টি প্রকাশ করতে পারি?
তবে জাহাজগুলোর সঠিক গন্তব্য বা বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে মেরিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘ক্লেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি তেলবাহী এবং পাঁচটি গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। তবে এগুলোই ট্রাম্পের উল্লেখ করা ১০টি জাহাজ কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, এগুলোর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ চীন ও থাইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছে এবং একটি ইতিমধ্যে ভারতে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়াতে চায় চীন