সৌর বিকিরণের তীব্রতায় ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে ত্রুটি দেখা দেয়ায় বিশ্বজুড়ে এয়ারবাস সংস্থার প্রায় ছয় হাজার ফ্লাইটকে গ্রাউন্ডেড করতে হয়েছে। এটি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক সংস্থাটির বিশ্বব্যাপী মোট উড়োজাহাজের প্রায় অর্ধেক। তবে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বেশিরভাগ বিমান কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে।
এয়ারবাস জানিয়েছে, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে চলাচলকারী জেট ব্লু এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ হঠাৎ উচ্চতা হারানোর ঘটনার তদন্তের পর এই সফটওয়্যার দুর্বলতা ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার পর বিমানটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করত বাধ্য হয়েছিলো।
সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, শুধুমাত্র তাদের তৈরি বেশ কয়েকটি মডেলের উড়োজাহাজগুলো একই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। প্রায় ৫,১০০ এয়ারবাস তুলনামূলকভাবে সহজ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, যার জন্য সাধারণত প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।
উইজ এয়ারের মতো কিছু বিমান সংস্থা রাতারাতি তাদের সব এয়ারবাস উড়োজাহাজের আপডেট শেষ করেছে এবং শনিবার তাদের ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে জানিয়েছে।
তবে, প্রায় ৯০০ পুরনো মডেলের বিমানের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সফটওয়্যার আপডেটে কাজ হবে না। এসবের কম্পিউটারগুলো প্রতিস্থাপন করতে হবে, যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে যাত্রী বহন করার অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রতিস্থাপনের সময় নির্ভর করবে নতুন কম্পিউটারগুলির প্রাপ্যতার ওপর। এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় যাত্রী সেবা বিঘ্নিত হবার জন্য ক্ষমা চেয়েছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষক স্যালি গেথিন বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতিটি খুবই অস্বাভাবিক এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বিমান সংস্থাগুলোর গৃহীত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাঙ্কসগিভিং উইকেন্ড চলছে, যা বছরের অন্যতম ব্যস্ততম ভ্রমণ সময়।