পুতিনের বাসভবনে হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিলো ইউক্রেন ও ইইউ

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে ড্রোন হামলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, ইউক্রেনীয় এবং ইউরোপীয় কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়েছেন। এই ঘটনাটি নতুন বছরের শুরুতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সোমবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেন, ইউক্রেন কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করে উত্তর নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের একটি বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেছে। এর ফলে মস্কো তাদের আলোচনার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তবে বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ইউক্রেন পুতিন বা তাঁর কোনো বাসভবনকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়নি। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে যে, সিআইএ’র একটি মূল্যায়নও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে এ বিষয়ে সিআইএ’র কোনো মুখপাত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার এই অভিযোগের প্রতি কিছুটা সহানুভূতি প্রকাশ করেন। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, পুতিন তাকে এই কথিত ঘটনার কথা জানিয়েছেন এবং এতে তিনি খুবই ক্ষুব্ধ। তবে বুধবারের মধ্যে তার সুরে পরিবর্তন আসে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি সম্পাদকীয় শেয়ার করেন, যেখানে রাশিয়াকে ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে যে, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের কাছ থেকে পুতিনের অভিযোগের বিষয়ে ব্রিফিং পাওয়ার পর ট্রাম্প ওই সম্পাদকীয়টি পোস্ট করেন। তবে র‍্যাটক্লিফের ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের পাল্টা অভিযোগ

ইউক্রেন এই হামলার কথা অস্বীকার করেছে এবং একে রাশিয়ার একটি অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করেছে। কিয়েভের মতে, ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সাম্প্রতিক ফলপ্রসূ বৈঠকের পর কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ফাটল ধরাতেই রাশিয়া এই মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো একটি বিস্তারিত নথিতে কিয়েভ অভিযোগ করেছে যে, ফ্লোরিডায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে হওয়া সমঝোতাগুলোকে নাশকতা করার লক্ষ্যেই রাশিয়া এই নাটক সাজিয়েছে।

বুধবার ইইউ’র শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস রাশিয়ার দাবিকে উদ্দেশ্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যে আগ্রাসী শক্তি ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে, তাদের এই ভিত্তিহীন দাবি কারো গ্রহণ করা উচিত নয়।

বুধবার পর্যন্ত এই হামলার কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ মেলেনি। তবে রাশিয়ার এই অভিযোগ এবং তার বিপরীতে ইউক্রেন ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে দুই পক্ষই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।

ন্যাটোতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ট ভলকার বলেন, পুতিন যে শান্তি চান কিংবা তিনি ইউক্রেনের সাফল্য চান- এমন কোনো প্রমাণ নেই। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রুশ নেতার সাথে কথা বলার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন পুতিন শান্তি চান।