গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সাথে সংশ্লিষ্ট আরও দুটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করার পর কিউবার নাগরিকরা এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা করছেন। মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো বন্দি হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরেই নেয়া এই পদক্ষেপটি কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপরাষ্ট্রটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।
মাতাঞ্জাস বন্দরে, যেখানে তেলের ট্যাঙ্কারগুলো নোঙর করে, সেখানে বন্ধ থাকা গ্যাস স্টেশন এবং জ্বালানির দীর্ঘ লাইন ক্রমবর্ধমান সরবরাহের ঘাটতিই তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ কিউবানদের মনে এই ভয় জাগিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমানে দেশটিতে নিয়মিত যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা 'ব্ল্যাকআউট' হয়, তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
মাতাঞ্জাসের বাসিন্দা উইলিয়াম গঞ্জালেজ রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় অবস্থা আরও খারাপ হবে, কারণ তারা এখন তেল আসতে দেবে না। আগে ভেনেজুয়েলা এবং রাশিয়া থেকে তেল আসত, এখন কেবল রাশিয়া থেকেই আসবে... অর্থাৎ তেলের একটি উৎস কমে গেল, তাই দেশের অবস্থা আরও একটু খারাপ হবে।
চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এক নাটকীয় পদক্ষেপে মার্কিন সামরিক বাহিনী গত বুধবার দুই সপ্তাহের ধাওয়া শেষে আইসল্যান্ডের কাছে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার 'মেরিনেরা' জব্দ করেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাশিয়ার একজন উচ্চপদস্থ আইনপ্রণেতা এই ঘটনাকে ‘সরাসরি জলদস্যুতা’ বলে নিন্দা করেছেন। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় চলাচলকারী সব নিষিদ্ধ জাহাজের ওপর ওয়াশিংটন অবরোধ আরোপ করার পর থেকে এটি চতুর্থ জাহাজ জব্দের ঘটনা।
এর আগে বুধবার সকালেই দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব দিকে ভেনেজুয়েলার সাথে সংশ্লিষ্ট আরেকটি ট্যাঙ্কার ‘এম সোফিয়া’ জব্দ করে মার্কিন কোস্ট গার্ড।
কিউবার জন্য ভেনেজুয়েলার তেলের উৎস হারানো চরম বিপর্যয়কর। শিপিং ডেটা এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন গড়ে ২৭,০০০ ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত, যা দ্বীপটির তেলের ঘাটতির প্রায় ৫০ শতাংশ পূরণ করত।
হাভানার একব্যবসায়ী মারিও ভালভার্দে বলেন, এর ফলাফল খুব একটা ভালো হবে না। জ্বালানি ও তেলের ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলাই আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করত।
মেক্সিকো বর্তমানে কিউবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশে পরিণত হলেও, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম বুধবার জানিয়েছেন যে, তারা ঐতিহাসিকভাবে কিউবাকে যে পরিমাণ তেল দেয়, তার চেয়ে বেশি পাঠাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান কিউবানদের মধ্যে ক্ষোভ ও এক ধরনের কঠোর সংকল্পের জন্ম দিয়েছে। ম্যানুয়েল রদ্রিগেজ নামে এক বাসিন্দা বলেন, মাদুরোর প্রতি ট্রাম্পের আচরণে আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট, কারণ এটি একটি দেশকে জোরপূর্বক নতিস্বীকার করতে বাধ্য করার শামিল। তিনি আরও যোগ করেন, যদি আরও ব্ল্যাকআউট হয়, কিউবান হিসেবে আমাদের তা সহ্য করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে।