কংগ্রেসের পূর্ব অনুমতি ছাড়া ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাব পাসের কথা রয়েছে। প্রস্তাবটির সমর্থকরা জানিয়েছেন, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এটি পাস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারাকাসে এক নাটকীয় সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বন্দি হওয়ার কয়েক দিন পরেই এই ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভেনেজুয়েলার উপকূলে নৌযানগুলোতে হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক চাপ বৃদ্ধির পর থেকেই 'যুদ্ধ ক্ষমতা' সংক্রান্ত ধারাবাহিক প্রস্তাবের সবশেষ ধাপ হিসেবে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগের প্রস্তাবগুলো রিপাবলিকানরা আটকে দিলেও সবশেষ ভোটাভুটিতে ব্যবধান ছিল মাত্র ৪৯-৫১। সে সময় ট্রাম্পের নিজ দলের দুজন সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সাথে যোগ দিয়ে প্রস্তাবটি সমর্থন করেছিলেন। তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

মাদুরোকে বন্দি করার পর অনেক আইনপ্রণেতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন- যাদের মধ্যে প্রকাশ্যে ডেমোক্র্যাটরা এবং পর্দার আড়ালে কিছু রিপাবলিকান সদস্যও রয়েছেন।
ভোটের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, আমি আজ অন্তত দুজন রিপাবলিকান সদস্যের সাথে কথা বলেছি যারা আগে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেননি, কিন্তু এখন এটি নিয়ে ভাবছেন।
এই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর টিম কেইনের পাশে দাঁড়িয়ে পল আরও বলেন, তারা কীভাবে ভোট দেবেন তা আমি নিশ্চিত করতে পারছি না, তবে অন্তত দু’জন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন এবং কেউ কেউ এই পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ্যেও বলছেন।

সিনেটর পল সেই রিপাবলিকানদের নাম প্রকাশ করেননি। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে ট্রাম্পের দল ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ।
সামনের চ্যালেঞ্জসমূহ
সিনেটে এই প্রস্তাব পাস হলে, সেসব আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি বড় বিজয় হবে, যারা দীর্ঘ দিন ধরে 'যুদ্ধ ক্ষমতা'র বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার। তবে এটি আইনে পরিণত হতে হলে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হতে হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ‘ভেটো’ ক্ষমতা মোকাবিলা করতে হবে। ট্রাম্পের ভেটো বাতিল করতে হলে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন পড়বে।
আইনপ্রণেতারা এই কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করেছেন। তবে তারা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল শাসন পরিবর্তনের অভিযানে জড়ানোর বিষয়ে অনেক রিপাবলিকান সদস্যই এখন সতর্ক। ট্রাম্প বুধবার তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান।
সিনেটর কেইন উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার নৌযানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা চালাবে’ সংক্রান্ত বক্তব্য এবং দেশটির তেল সম্পদ জব্দের ঘটনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত গ্রেপ্তার অভিযান নয়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনো প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান শুরু করার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, যারা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন, তাদের দাবি- মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ, কোনো সামরিক অভিযান নয়। মাদুরো বর্তমানে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন, যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
বিরোধীদের মতে, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রয়েছে।
মিনিয়াপোলিসে এজেন্টের গুলিতে নারীর মৃত্যুতে শহরজুড়ে বিক্ষোভ
বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস করছে আমেরিকা, গর্জে উঠলেন জার্মান প্রেসিডেন্ট