পুরো ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের আসনে ভোটের লড়াইয়ে ভিন্ন হিসাব দেখা গেছে। অন্য আসনগুলোতে বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও এটা আসনে লড়েছেন একই জোটের প্রার্থীরা।
আর লড়াইয়ে হেরেছেন কংগ্রেস থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরী। তাকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ইউসুফ পাঠান। আর এর মাধ্যমেই থামতে হলো বঙ্গ রাজনীতির ‘লম্বা রেসের ঘোড়া’ হিসেবে পরিচিত লড়াকু অধীরকে।
ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের সাবেক বলার পাঠানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, জাতপাতের রাজনীতির কাছে হেরেছেন তিনি। তিনি ‘স্যান্ডউইচ’ হয়েছেন।
টানা ২৫ বছর পর বহরমপুরে রাজত্ব করেছেন অধীর চৌধুরী। পরপর পাঁচবার বহরমপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত অধীর চৌধুরী রেল প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৫২টি আসনে জয়ী হয়ে তাকে লোকসভার দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয়।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক তৃণমূল কংগ্রেস। সেই জোটসঙ্গীরাই যে তার বিরুদ্ধে প্রার্থী নামাবেন তা ভাবতেও পারেননি অধীর। তবে বিপদের আঁচ টের পেয়েছিলেন ভোটের আগেই। তার অভিজ্ঞ অধীর ভোটে জয় পেতে বামদের সঙ্গে জোট বেঁধে ময়দানে নামেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার গলায় কাস্তে-হাতুড়ি-তারা আকা উত্তরীয় নজর কেড়েছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাও কাজে লাগেনি। সমস্ত শক্তি কাজে লাগিয়েও রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ ইউসুফ পাঠানের কাছে হারলেন ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে।
পরাজয়ের পরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধীর চৌধুরী বলেন, আমি স্যান্ডউইচ হয়েছি। এক দিকে হিন্দু ভোটের বিভাজন, অন্য দিকে মুসলিম ভোটের বিভাজন। আমি হিন্দু হতে পারিনি। মুসলিমও হতে পারিনি।
তবে পরাজয়ের জন্য অধীরকেই দুষছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, উনি কংগ্রেসের নেতা নন। উনি আসলে বিজেপি। আর বিজেপিকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
১৯৯১ সালে নবগ্রাম বিধানসভায় প্রথম ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন অধীর। সে বার হেরে গিয়েছিলেন। তার পাঁচ বছর পর সেই নবগ্রাম থেকে জিতেই বিধায়ক হন তিনি। তার পর আর অধীরের রথ থামেনি।
২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়ের দিনেও বহরমপুরে জিতেছিলেন অধীর। কিন্তু ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরে কংগ্রেস প্রার্থী হন অধীর। নবগ্রামের কংগ্রেস বিধায়ক হয়েই ভোটে লড়াই করেছিলেন তিনি। সেই ভোটে আরএসপি সাংসদ প্রমথেশকে হারিয়ে প্রথম বারের জন্য সাংসদ হন।