উত্তরপ্রদেশের যে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা নিয়ে ভারতজুড়ে বিভেদ সৃষ্টি করে বিজেপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছিল, সেই আসনেই ভরাডুবি ঘটতে যাচ্ছে এনডিএ জোটের প্রার্থীর।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে অযোধ্যা পড়েছে ফৈজাবাদ আসনের মধ্যে। আসনটিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী অবধেশ প্রসাদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিজেপির লাল্লু সিং।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ফৈজাবাদ জেলার নামও পাল্টে ফেলা হয়। ২০১৮ সালে নতুন করে জেলার নাম হয় অযোধ্যা। তবে লোকসভার আসনটিকে ফৈজাবাদ নামেই থেকে যায়।
চলতি বছরেরই জানুয়ারি মাসে অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই বিজেপি পিছিয়ে থাকার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৯ সালে রাম মন্দির ইস্যু ছিল বিজেপির। অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির আশ্বাস দিয়েছিল পদ্মশিবির। সেই আশ্বাস রেখেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে রাম মন্দির উদ্বোধন হয়।
বিজেপি সারা ভারতেই এই ইস্যু নিয়ে প্রবল প্রচার করেছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বারবার রাম মন্দির প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের নির্বাচনে অন্যতম জনপ্রিয় কথা হলো-উত্তরপ্রদেশ যার দখলে, দিল্লির মসনদ সেই দলের। হিন্দুত্ববাদকে রাজনীতির ময়দানে নামিয়ে গত দুইবারের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আসল জায়গা ছিলো উত্তরপ্রদেশ। কিন্তু এবার দিন পাল্টেছে। উত্তরপ্রদেশেই বিজেপি জনপ্রিয়তায় নেমেছে ধস।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়াটুডের হিসাবে, রাজ্যের ৮০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এগিয়ে রয়েছে ৪০ আসনে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে ৩৯টিতে। একটিতে এগিয়ে আলএলডি।
অথচ গত দুই নির্বাচনে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ৮০ আসনের মধ্যে ৭৩টিতে জিতেছিল এনডিএ জোট, বিজেপি সেবার একাই পেয়েছিল ৭১ আসন। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও এনডিএ ৬৩ আসন পায়, বিজেপি পায় ৬১টি।
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই ইন্ডিয়া জোটের উত্তরপ্রদেশ দখলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। যা ঘিরে পদ্ম শিবিরেও চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
আবারও পূণর্জন্মের গল্প লিখলো কংগ্রেস!
উত্তরপ্রদেশের ঘাঁটি হারাচ্ছে বিজেপি
সেই নাইডু-নীতীশ চক্রে এবার বিজেপি
মা সোনিয়াকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড রাহুলের