রাশিয়ার ছিটমহল কালিনিনগ্রাদে যদি কেউ আক্রমণ করার চেষ্টা করে, তবে তাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা মস্কোর হাতে রয়েছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাল্টিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এবং চলমান ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্টুটিস বুড্রিসের করা এক উস্কানিমূলক মন্তব্যের জবাবে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই প্রতিক্রিয়া দেখান। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ন্যাটো জোট রাশিয়ার ভেতরে কালিনিনগ্রাদে অনুপ্রবেশ বা আঘাত হানতে পুরোপুরি সক্ষম এবং মস্কোকে এখন সেটাই প্রমাণের মাধ্যমে দেখানোর সময় এসেছে।
ন্যাটোভুক্ত দেশের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাশিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডের ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আক্রমণকারীদের নিশ্চিহ্ন করতে রাশিয়া বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
এর পাশাপাশি, ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ প্রতিবেশী বাল্টিক দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের বিষয়ে পুতিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইউক্রেন তাদের বেশ কিছু দক্ষ ড্রোন অপারেটরকে লাতভিয়ায় পাঠিয়েছে, যারা লাতভিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে।
এই প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের সামরিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, যে কোনো স্থান বা অঞ্চল যদি রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য সামান্যতম হুমকিও তৈরি করে, তবে মস্কোর সামরিক বাহিনীর কাছে তা একটি অত্যন্ত ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, লাতভিয়া বা অন্য কোনো দেশের মাটি ব্যবহার করে রাশিয়ার ওপর হামলা চালানো হলে রাশিয়া সেই দেশের ভেতরেও পাল্টা আঘাত হানবে।
তবে সামরিক শক্তির এমন কড়া প্রদর্শনী ও হুঁশিয়ারির মধ্যেও ইউক্রেন সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথা উল্লেখ করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
তিনি বলেন, এত সব উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির পরেও রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাতের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের অর্থবহ আলোচনা বা শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে বরাবরের মতোই প্রস্তুত রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুতিনের এই স্পষ্ট বার্তার পর ন্যাটো ও বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো তাদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স