নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ বাইডেনের

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, বুধবার পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। তবে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিহতের এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বাইডেন বলেছেন, ‘কত লোক নিহত হয়েছেন তা সম্পর্কে ফিলিস্তিনিরা সত্য কথা বলেছে বলে আমি মনে করি না। আমি নিশ্চিত নিরপরাধ মানুষেরা নিহত হয়েছেন এবং এটি যুদ্ধ শুরুর করার পরিণতি। তবে ফিলিস্তিনিরা যে সংখ্যার কথা বলছে, তাতে আমার আস্থা নেই।

বুধবার অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান’র।

বাইডেন নতুন করে ইসরাইলের পাশে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কয়েক দশক পুরনো ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসানে দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতি জোরদার করবেন তিনি। 

৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যোদ্ধাদের ইসরাইলে হামলার পর দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেটেলারদের প্রতিশোধমূলক হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাইডেন সেটেলারদের এমন হামলার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে জ্বলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্যে উগ্র সেটেলারদের হামলাগুলো জ্বালানি ঢালছে। এগুলো বন্ধ হতে হবে। তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। এখনই এসব বন্ধ হতে হবে।

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইসরাইলে হামাসের হামলার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর সেটেলারদের সহিংসতা বেড়েছে। সেটেলারদের হাতে ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছেন। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছে, একাধিক ছোট বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে সেটেলাররা, গাড়িতে আগুন দিয়েছে, তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে।

আবারও এক হাজার ৪০০ ইসরাইলিকে হত্যা করা হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মার্কিন নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে বানচাল করতে হামাস এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ইসরাইল-হামাস সংঘাতের অবসানের পর ইসরাইল, ফিলিস্তিন ও তাদের অংশীদারদের দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধান নিয়ে অবশ্যই কাজ করতে হবে বলে বলেন বাইডেন। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন পাশাপাশি নিরাপত্তা, শ্রদ্ধা ও শান্তিতে বসবাসের সম-অধিকারের দাবিদার। যখন এই সংকটের অবসান হবে তখন আগামীর লক্ষ্যে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, সেটিকে হতে হবে দুই রাষ্ট্র সমাধান।